শরীয়তপুরে ক্লুলেস শিক্ষক হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে এসআরবি-৮। ২১ অক্টোবর রাতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক আতাউর রহমান (৫৮) শরিয়তপুরের ঢাকা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার। এর আগেও ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। ২২ অক্টোবর এসআরবি-৮ এর বরিশাল সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাদারীপুর কোম্পানি কমান্ডার মোঃ আশরাফুল কবির এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যা মামলার বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, গত ১৮ অক্টোবর গাজিপুর কোনাবাড়ী এলাকার খোলাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনের কাছে তাকে মারধরের ছবি পাঠিয়ে চিকিৎসার খরচ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন। পরে ২০ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মৃতের ভাই ওই দিনই ভেদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এসআরবি-৮ এর মাদারীপুর শাখা ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের লক্ষে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২১ অক্টোবর রাতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে ঢাকা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে আটক করে। আতাউর নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার আফুলশী মিয়াবাড়ী গ্রামের ছালেহ আহম্মদের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আরও দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৮ বরিশাল সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার সাথী আক্তারসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
