Published on
:
2 min read
দিল্লির স্বরূপনগরে গণধর্ষণের ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেল পুলিশ। সম্প্রতি ওই ঘটনায় কিশোরীর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা DNA পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক গবেষণাগারে পাঠিয়েছিল পুলিশ। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গিয়েছে, কিশোরীর শরীরে বীর্যের উপস্থিতি রয়েছে। এই ঘটনায় যে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ তাদের দেহরসের সঙ্গেও এই বীর্যের DNA স্যাম্পেল মিলে গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। দিল্লির স্বরূপনগরের খাড্ডা কলোনি এলাকায় ১৬ বছর বয়সি কিশোরীকে গণধর্ষণের পরে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দিন দুয়েক পরে, ওই কিশোরীর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিন নাবালক-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করার পরে চার অভিযুক্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। দেহটি উদ্ধারের সময়ে তার মাথার খুলি এবং বুকের পাঁজরের একাধিক হাড় ভাঙা ছিল। ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ডান হাতও। দেহের অনেকটা অংশ পচে যাওয়ার কারণে প্রাথমিক ভাবে মৃতদেহের লিঙ্গ নির্ধারণ করতেও অসুবিধা হয় পুলিশের। তবে, দেহের বাঁ হাতে থাকা ট্যাটুর চিহ্ন দেখে মৃতদেহটি শনাক্ত করে কিশোরীর পরিবারের লোকজন। চার জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যে ওই চার জন জড়িত তা প্রমাণ করতেই DNA পরীক্ষা করানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ থেকে সোয়াব সংগ্রহ করে তা অভিযুক্তদের দেহ থেকে সংগ্রহ করা স্যাম্পলের সঙ্গে মেলানো হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, নির্যাতিতার দেহে বীর্যের উপস্থিতি রয়েছে। এমনকী, ওই সোয়াবের সঙ্গে ৪ অভিযুক্তর ক্রোমোজ়োম প্রোফাইলের মিল পাওয়া গিয়েছে।
এক তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে নির্যাতনের প্রমাণ জোগাড়ের জন্য DNA স্যাম্পলিং কার্যকরী। স্বরূপনগরের ঘটনায় নির্যাতিতার দেহে বীর্যের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। তাঁর সোয়াবের সঙ্গে অভিযুক্তদের দেহের ক্রোমোজ়োম প্রোফাইল মিলে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর পুলিশ একটি ৩৬৫ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে। সেই চার্জশিটে ৫৪ জন সাক্ষীর বয়ান রয়েছে। এর পাশাপাশি, চার অভিযুক্তের Gait Analysis-এর রিপোর্টও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
