নড়াইলের মধুমতি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, আর ভাঙনও শুরু হয়েছে তীব্র আকারে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে মধুমতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ আমলের বড়দিয়া নৌবন্দরে। নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীসহ আশপাশের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছেন। তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা মধুমতি-নবগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে ৬০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের বিষয়ে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ মঙ্গলবার বিকেলে ভাঙনকবলিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
বড়দিয়া নৌবন্দরের পাশে পাট ব্যবসায়ী জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অনেকের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর জিওব্যাগ বন্দরে এসে পৌঁছাল। যেমনটি প্রবাদ রয়েছে—‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল।’ ঠিক তেমনই অবস্থা হয়েছে বড়দিয়া নৌবন্দরের ব্যবসায়ীদের।
খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম বরকত হোসেন বলেন, আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছি। তাদের বলেছি, নদীর পানি কমতে শুরু করলে ভাঙন শুরু হবে। কিন্তু নদীভাঙনের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে কেউ সময়মতো এগিয়ে আসেনি। জিওব্যাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৬০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, আপৎকালীন বরাদ্দ থেকে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু সেটা করা হয়নি। জানি না, ওই তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল কি না। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ পেতেও একটু সময় লাগে।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোনো ইজারাদার বালু উত্তোলন করলে তার ইজারা বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক স্যারকে জানানো হবে।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীতীরবর্তী এলাকায় ক্ষতি হতে পারে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। বড়দিয়া নৌবন্দরের ভাঙন প্রতিরোধে প্রথমে দুই হাজার পাঁচশটি জিওব্যাগ ভাঙনকবলিত স্থানে ফেলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও জিওব্যাগ ফেলা হবে।
