ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় লুট হওয়া পণ্য অনলাইনে বিক্রির বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে সেকেন্ডহ্যান্ড পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ভিন্টেড। একই সঙ্গে সন্দেহজনক বিজ্ঞাপনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুট হওয়া পণ্য বিক্রি ঠেকাতে ফরাসি সরকার অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করার পর এ পদক্ষেপ নিল প্রতিষ্ঠানটি।
সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় বহু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সম্পদের ক্ষতি ও চুরির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় লুই ভুইতোঁ, রোলেক্স ও সেফোরার মতো বড় ব্র্যান্ডের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভিন্টেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লুট হওয়া পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলতে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ম অনুযায়ী, চুরি করা পণ্য বিক্রি করা বা এ ধরনের বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফ্রান্সের ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সার্জ পাপাঁ জানিয়েছেন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। লুট হওয়া পণ্যের বিজ্ঞাপন শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পাশাপাশি সরকার নিজেও অনলাইনে পণ্য বিক্রির ওপর নজর রাখছে। চুরি করা পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সহিংসতার কারণে সেফোরার কয়েকটি দোকান লুটপাটের শিকার হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি শনিবার বিকেল ৫টায় ফ্রান্সের সব দোকান বন্ধ করে দেয়। পরদিন শহরের কেন্দ্রস্থলের দোকানগুলোও বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য প্যারিসের রু সাঁতো নোরে এলাকায় নিজেদের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড বারবেরি।
২০০৮ সালে লিথুয়ানিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ভিন্টেড বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বড় সেকেন্ডহ্যান্ড পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালি প্রতিষ্ঠানটির বড় বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
