তুরস্কে বিরোধীপন্থী একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে চ্যানেলটির সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে।
হাল্ক টিভি জানিয়েছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ইস্তাম্বুলে তাদের কর্মীরা ভবনটিতে প্রবেশ করতে পারেননি। চ্যানেলটি পরিচালনার জন্য নতুন একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও জানায় তারা।
তুরস্কের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক অপরাধবিষয়ক পুলিশের সদস্যরা ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়েছেন। চ্যানেলটির মালিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অভিযানে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
তুরস্কের অনেক মানুষ হাল্ক টিভিকে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) ঘনিষ্ঠ বলে মনে করেন। চ্যানেলটি প্রায়ই প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির সমালোচনা করে।
বুধবার ভোরে চ্যানেলটির নিউজ সম্প্রচার এবং ইউটিউব পাতায় সরাসরি সম্প্রচার—দুটিই বন্ধ ছিল।
তুরস্কের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌঁসুলিরা হাল্ক টিভির চেয়ারম্যান জাফের মাহিরওলুর বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দরপত্রে কারসাজি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাহিরওলু দেশের বাইরে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘চ্যানেলটি তুরস্কের জনগণের। এটি দখল করে কোনো ট্রাস্টির হাতে তুলে দেয়া যায় না।’
গত মে মাসে তুরস্কের একটি আদালত সিএইচপির নেতৃত্বকে দল পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিরোধী দলটির দাবি, ওই পদক্ষেপ এরদোয়ানের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করেছে।
এদিকে, ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগলু দুর্নীতির অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাকে এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।
