চট্টগ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মারধর ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দৈনিক পূর্বদেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার আবুল হোসাইন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সৈকত (২৪) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলাটিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
রোববার বিকেলে নগরের হালিশহর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় সৈকতসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন আদায় করা হয়। এরপর বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নগদ টাকা ও বিকাশ লেনদেন মিলিয়ে মোট ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আবুল হোসাইন।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়ার আগে সামাজিকভাবে হেয় করা ও ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর হালিশহর থানায় মামলা করেন সাংবাদিক আবুল হোসাইন।
পুলিশ জানায়, এ মামলায় এর আগে এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচ নম্বর আসামি সৈকত।
মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো. সাইফুল প্রকাশ ভেড়া সাইফুল, বাইট্টা বাবুল, মিজান, অনিক, মহিত ও রবিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জু বলেন, রোববার বিকেলে সৈকতকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে যেভাবে জিম্মি করে টাকা আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার, টাকা উদ্ধার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস
