সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত ফাঁকা গাড়িতে গুলি করার ঘটনায় একজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। তবে তাঁকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
আজ শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না। চালকও গাড়িতে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।
ডিসি ইবনে মিজান প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িতে কেউ ছিল না। আসিফ আকবর তখন বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় স্টুডিওতে ছিলেন। চালকের পেছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসা পাওয়া গেছে। গুলিতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে। ঘটনার একটি সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। তবে সেখানে হামলাকারীর চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। শুধু পা দেখা যাচ্ছে। পুলিশ বিশাল সেন্টারের আশপাশ এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগের দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আসতে দেখা যায়। অটোরিকশাটি বিশাল সেন্টারের সামনে এসে থামে। সেখান থেকে একজন নেমে এসে আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করে আবার অটোরিকশায় উঠে মালিবাগের দিকে চলে যান। তবে অটোরিকশায় আরও কেউ বসা ছিল কিনা সে বিষয়টি এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাতিরঝিল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আসিফ আকবর তাঁর স্টুডিওতে আসেন। সেখানে তাঁর কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন। বন্ধুরা দিবাগত রাত তিনটার দিকে চলে যান। তবে আসিফ আকবর সকাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। পরে গুলির শব্দ শুনে তিনি নিচে নেমে আসেন। পরে জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’–এ পুলিশে খবর দেন।
তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান আরও বলেন, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসিফ আকবরের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তারপরও আসিফ আকবরের সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব আছে কিনা খতিয়ে দেখা যাচ্ছে। সবগুলো দিক বিবেচনা করে এ ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ঘটনায় কাজ করছে।
বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রাতে মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা পাহারায় ছিলেন। সকালে অটোরিকশায় করে এসে একজন গুলি করে পালিয়ে গেছেন। গুলির শব্দে নিরাপত্তাকর্মীরা ভয়ে মার্কেটের ভেতরে ঢুকে যান। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে আসিফ আকবরকে খবর দেন। পরে তিনি নীচে নেমে আসেন। মার্কেটের সবগুলো সিসি ক্যামেরা সচল না থাকায় স্পষ্ট ফুটেজ তাঁরা পাননি। দোকানের ক্যামেরাগুলো চালু থাকলেও রাস্তা পর্যন্ত ফুটেজ পাওয়া যায় না। ফলে হামলাকারীর স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি।
