ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উত্তরাঞ্চলে আনচল তামান ইমপিয়ান পর্যটন কমপ্লেক্সে আন-নুর ভাসমান মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাকার্তার গভর্নর প্রামোনো আনুং মসজিদটির উদ্বোধন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি রাজধানীর ধর্মীয় পর্যটনের নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনে পরিণত হবে।
প্রামোনো বলেন, ‘আমি আশা করি আন-নুর মসজিদ জাকার্তার মানুষের জন্য বরকত বয়ে আনবে। আমার বিশ্বাস, এটি ধর্মীয় পর্যটনের নতুন একটি আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীরা আনচল উপভোগ করার পাশাপাশি মসজিদটি পরিদর্শন ও সেখানে ইবাদতও করতে পারবেন। দুই হাজার ২৪১ বর্গমিটার আয়তনের মসজিদটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৯০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের মূল নামাজকক্ষে ৬০০ জন একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ১৪০ জন্য নারী নামাজ পড়তে পারবেন। এ ছাড়া মসজিদের চত্বরে আরো প্রায় ৩০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।’
প্রামোনো বলেন, মসজিদটি আনচলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য ইবাদতের একটি স্থান হিসেবেও কাজ করবে। মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এখানে আসতে পারবেন।
মসজিদটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান পেমবাংগুনান জয়া আনচলকে স্থাপনাটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বজায় রাখার আহবান জানান গভর্নর।
স্থপতি আন্দ্রা মাতিনের নকশায় নির্মিত আন-নুর ভাসমান মসজিদের মূল ভাবনা হলো ‘বাহতের ইমান’, যার অর্থ ‘বিশ্বাসের তরি।’
মসজিদের পঞ্চভুজাকৃতির ভূমি-নকশা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ ও দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতীক। অন্যদিকে এর অর্ধচন্দ্র ও তারকা আলো ও পথনির্দেশনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সে সময় জাকার্তার গভর্নর ছিলেন আনিস বাসওয়েদান। পরে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্পটির কাজ বিলম্বিত হয়। ২০২৪ সালের ১ মে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।
জাকার্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য প্রামোনো পিটি পেমবাংগুনান জয়া আনচল, পিটি ইন্দোকাতের, স্থপতি আন্দ্রা মাতিন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জাকার্তা সিটি কাউন্সিলের স্পিকার সুহুদ আলিনুদ্দিন বলেন, মসজিদটির নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মসজিদটি ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জাকার্তার পর্যটন খাতের বিকাশেও অবদান রাখবে।
