পুজোয় ঠাকুর দেখার আনন্দে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো বা এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে হেঁটে বেড়ানো, স্বাভাবিক। কিন্তু দিনের শেষে পায়ে ব্যথা, গোড়ালি ফুলে যাওয়া, পেশিতে টান বা হাঁটুতে অস্বস্তি। উৎসবের আনন্দে শরীরের উপর বাড়তি ধকল পড়লে এমন সমস্যা দেখা দিতেই পারে। বিশেষ করে প্রবীণ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। পুজোর দিনগুলোতে কীভাবে সামলাবেন পায়ের এই ধকল? কোন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
একটানা দাঁড়ালেই সমস্যা?
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হাঁটাহাঁটি করলে পায়ের পেশি ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, পায়ের পাতায় অস্বস্তি, হাঁটুতে যন্ত্রণা এবং গোড়ালি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষত যাঁরা নিয়মিত হাঁটেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি বেশি দেখা যায়। অস্বস্তিকর জুতো বা শক্ত মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও সমস্যা বাড়তে পারে।
তবে সব ব্যথাকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করা, বিশেষত অন্য কোনও ঝুঁকি থাকলে, পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা বাড়তে পারে। যাকে বলা হয় ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস। তাই সাধারণ পেশির ব্যথা আর অস্বাভাবিক ফোলাভাবের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
লাইনে দাঁড়িয়েই সতর্কতা
ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করার সময় নিজের শারীরিক ক্ষমতার কথা মাথায় রাখুন। একটানা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে সুযোগ পেলে বসে বিশ্রাম নিন। দাঁড়িয়ে থাকার সময় পায়ের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে বদলান। সম্ভব হলে মাঝে অল্প হাঁটুন এবং পায়ের গোড়ালি ওঠানো-নামানোর মতো সহজ নড়াচড়া করুন।
জুতো নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন। খুব আঁটসাঁট, শক্ত সোলের বা উঁচু হিলের জুতো দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য উপযুক্ত নয়। আরামদায়ক, সঠিক মাপের জুতো পরুন। নতুন জুতো পরে দীর্ঘক্ষণ ঠাকুর দেখতে বেরনো এড়িয়ে চলুন। সঙ্গে রাখুন পানীয় জল। তবে হৃদ্যন্ত্র বা কিডনির অসুখের কারণে চিকিৎসক যাঁদের জল পানের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা সেই নির্দেশ মেনেই চলুন।
ব্যথা হলে কী করবেন?
বাড়ি ফিরে পা কিছুটা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে সাধারণ ক্লান্তিজনিত ফোলাভাব কমতে পারে। পেশিতে ব্যথা হলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। ব্যথা না কমলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খেয়ে পরের দিন আবার একই ভাবে দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি করবেন না। বিশেষত কিডনির অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের পায়ের যত্নে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। পায়ের অনুভূতি কমে গেলে ফোসকা, ক্ষত বা জুতোর ঘষা লাগলেও তা সহজে বোঝা যায় না। তাই বাড়ি ফিরে পায়ের পাতা ও আঙুলের ফাঁক পরীক্ষা করে নিন। কোনও ক্ষত বা ফোসকা চোখে পড়লে অবহেলা করবেন না।

এই লক্ষণ দেখলে দেরি নয়
একটি পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, পায়ের পাতায় ব্যথা, লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এমন পরিস্থিতিতে পায়ে মালিশ করা বা নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
এর সঙ্গে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এগুলি ফুসফুসে জমাট বাধা রক্ত পৌঁছনোর মতো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
পুজোয় ঠাকুর দেখার আনন্দে শরীরের সংকেত উপেক্ষা করবেন না। আগে থেকে পরিকল্পনা করুন, প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিন এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা করান। উৎসবের আনন্দ যেন অসুস্থতার কারণ না হয়ে ওঠে।
