সার্বজনীন দুর্গোৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর পূজামণ্ডপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের আমেজের মাঝেও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ি সংস্কৃতির অনন্য রূপ।
বিগত ৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও খাগড়াপুরের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে দেবী দুর্গাকে সাজানো হয়েছে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বিশেষ লোকজ অলংকারে।
খাগড়াপুর পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা যায়, খাগড়াপুর একটি ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকা। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে তারা এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চামেলী ত্রিপুরা জানান, “অনেক আগে থেকেই এখানে পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে, তবে আমরা গত নয় বছর ধরে দেবী দুর্গাকে ত্রিপুরা নারীর রূপ ও পোশাকে সাজিয়ে পূজা করছি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- আমাদের ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং হারিয়ে যেতে বসা পুরোনো অলংকারগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা ও টিকিয়ে রাখা। পাশাপাশি, মায়ের মধ্যে নিজেদের রূপ খুঁজে পাওয়ার আনন্দই আলাদা।”
মণ্ডপে আসা পূজারী তপু ত্রিপুরা ও পলিসি ত্রিপুরা জানান, নিজস্ব পোশাকে মা দুর্গাকে সাজতে দেখে তাদের বুকটা গর্ব ও আনন্দে ভরে গেছে। এতে দেবীকে নিজেদের আরো আপন মনে হয়। তারা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন, বিগত বছরের মতো আগামী দিনগুলোতেও যেন সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন এবং দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা অশান্তি না থাকে।
এদিকে, জেলার নয় মাইল এলাকা থেকে আসা সবিতা ত্রিপুরা ও যতিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, প্রতি বছরই তারা এই বিশেষ রূপের দেবী দুর্গাকে দেখতে মণ্ডপে আসেন। নিজেদের সংস্কৃতিতে মায়ের এই সাজ দেখতে খুবই ভালো লাগে। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় তারা মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব পোশাকে দেবী প্রতিমা গড়ার এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
