বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস পালিত
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ) আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর লে মেরিডিয়ান হোটেলে দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল শেফস ডে ২০২৬’ উদযাপনের আয়োজন করে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা খাতের শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘FoodExplorers’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন হেলাল।
বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)-এর সভাপতি শাহিদ শাহিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান সংগঠনকে সুসগঠিত করার নানা পরামর্শ প্রদান করেন।
সেইসঙ্গে আয়োজনে ছিল রন্ধনশিল্পভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, সম্মাননা প্রদান, পেশাদার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শেফদের বিশেষ পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটি শেফ, ফুড ইনফ্লুয়েন্সার, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটিতে নেসলে প্রফেশনাল সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিল।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিসিএফ দেশের সকল পেশাদার শেফ, রন্ধনশিল্পী, কালিনারি শিক্ষার্থী এবং খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানায়। বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই বিসিএফের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে আরও সুপরিচিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস : রাজধানীতে নানা আয়োজন
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ এএম
স্বাদ, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার মেলবন্ধনে রন্ধনশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান শেফরা। তাঁদের হাতের জাদুতে সাধারণ উপকরণ হয়ে ওঠে বিশেষ পদ, আর খাবার হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগ প্রকাশের মাধ্যম। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পের এই কারিগরদের অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন
রন্ধনশিল্পের স্বীকৃতি
প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিজের (ওয়ার্ল্ডশেফস) তৎকালীন সভাপতি বিল গ্যালাঘারের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এই দিবসের মূল লক্ষ্য শেফদের পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা এবং খাবার ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
একজন শেফের কাজ কেবল সুস্বাদু খাবার তৈরি করা নয়। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উপকরণের অপচয় কমানো এবং রান্নাঘরের ব্যবস্থাপনা সামলানোও তাঁর দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে পেশাদার রান্নাঘরে সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শেফরা খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
প্রতিটি দেশের খাবারের রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের রন্ধন ঐতিহ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভান্ডার। ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা, মাংসের নানা পদ, পিঠাপুলি ও মিষ্টান্ন প্রতিটি খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অঞ্চলভেদে আলাদা রন্ধনরীতি ও পারিবারিক স্মৃতি। দেশীয় উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী রান্নার কৌশলকে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শেফরা এই ঐতিহ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলী, আধুনিক রান্নার প্রযুক্তি এবং নতুন উপকরণের ব্যবহারও দেশের রেস্তোরাঁ ও হোটেলশিল্পে বৈচিত্র্য এনেছে। দেশীয় স্বাদকে আন্তর্জাতিক পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা বিদেশি খাবারে স্থানীয় উপকরণের ব্যবহার এ ধরনের সৃজনশীল প্রয়াস রন্ধনশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ফলে শেফদের ভূমিকা এখন রান্নার গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যসংস্কৃতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেশা হিসেবে শেফ হওয়ার সম্ভাবনা
হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, ক্রুজশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ শেফদের কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফুড কনসালট্যান্ট, রেসিপি ডেভেলপার, ফুড কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা নিজস্ব খাদ্যপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারভিত্তিক কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ায় শেফদের সৃজনশীল কাজ বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই পেশায় সফল হতে প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, ধৈর্য ও শেখার মানসিকতা। স্বাদ সম্পর্কে ধারণার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, উপকরণ সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের শৃঙ্খলা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনও জরুরি। একজন দক্ষ শেফের পরিচয় তৈরি হয় তাঁর অভিজ্ঞতা, কাজের মান এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার প্রচেষ্টায়।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক শেফ দিবসের আয়োজন
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ) ২০ অক্টোবর ঢাকার লে মেরিডিয়ান হোটেলে দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল শেফস ডে ২০২৬’ উদযাপনের আয়োজন করেছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। দেশের রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা খাতের শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো এ অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী বেগম আফরোজা খানম রিতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ ছাড়া নেসলে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপাল আবেয়উইকরেমা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন হেলাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)-এর সভাপতি শাহিদ শাহীন জানান, এবারের আয়োজনে থাকবে রন্ধনশিল্পভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, সম্মাননা প্রদান, পেশাদার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শেফদের বিশেষ পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটি শেফ, ফুড ইনফ্লুয়েন্সার, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অংশ নিবেন।
আরও পড়ুন
ঢাকায় যাত্রা শুরু করল চায়নিজ রেস্তোরাঁ ‘হাউস অব হান’
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত চায়নিজ রেস্তোরাঁ ‘হাউস অব হান’। রন্ধন ঐতিহ্য, দক্ষ কারিগরি ও বিলাসবহুল পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে তোলা রেস্তোরাঁটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে। মাস্টার চায়নিজ শেফ চেনের নেতৃত্বে রেস্তোরাঁটিতে অতিথিরা উপভোগ করতে পারবেন ঐতিহ্যবাহী চীনা রন্ধনশৈলীর নানা পদ।
রেস্তোরাঁটির মূল ভাবনায় রয়েছে চীনা খাবারের ঐতিহ্য, রান্নার কৌশল এবং স্বাদের স্বকীয়তা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নান্দনিক অন্দরসজ্জা ও আন্তরিক আতিথেয়তা। আয়োজকদের মতে, খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনা থেকে শুরু করে অতিথিসেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রে যত্ন ও মানের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি পরিশীলিত ডাইনিং অভিজ্ঞতা দেওয়াই হাউস অব হানের লক্ষ্য।
রেস্তোরাঁটির অন্যতম আকর্ষণ সিগনেচার ডাক। খাবারটি তৈরির প্রক্রিয়া, নিপুণভাবে কাটা এবং পরিবেশনের বিশেষ ধরন অতিথিদের ডাইনিং অভিজ্ঞতায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। রান্নার প্রস্তুতি থেকে টেবিলে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সূক্ষ্মতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইএইচজি সাউথওয়েস্ট এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বনী নায়ার বলেন, “হাউস অব হান মাস্টার চায়নিজ শেফ চেনের সৃজনশীল অভিব্যক্তির স্বাক্ষর। আমাদের লক্ষ্য ঢাকায় এমন এক বিলাসবহুল পরিবেশে খাঁটি চীনা খাবার তুলে ধরা, যেখানে স্বাদ ও উপস্থাপনায় থাকবে সততা।”
তিনি আরও বলেন, খাবারের স্বাদ, অন্দরসজ্জা ও সেবার আন্তরিকতা—সবকিছুই যত্নের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, হাউস অব হানকে দুটি শব্দে বর্ণনা করতে হলে বলতে হবে ‘অনেস্ট লাক্সারি’ বা ‘সৎ বিলাসিতা’।
মাস্টার চায়নিজ শেফ চেন বলেন, চীনা রন্ধনশৈলীর গভীরে রয়েছে ঐতিহ্য, উপকরণের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রান্নার কৌশল। হাউস অব হানে সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে প্রতিটি পদে নিজের সৃজনশীলতা ও যত্নের ছাপ রাখতে চান তিনি। একই সঙ্গে অতিথিদের সঙ্গে চীনা রন্ধনশৈলীর স্বতন্ত্র স্বাদ ও কারিগরি ভাগ করে নেওয়ার প্রত্যাশাও জানান এই শেফ।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে অবস্থিত রেস্তোরাঁটিতে রয়েছে ১০টি ব্যক্তিগত ডাইনিং রুম। ব্যবসায়িক আলোচনা, পারিবারিক আয়োজন কিংবা বিশেষ উদ্যাপনে অতিথিদের ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব কক্ষ সাজানো হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চীনা রন্ধন ঐতিহ্যকে আধুনিক আতিথেয়তার সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে হাউস অব হান। রেস্তোরাঁটির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকার ফাইন ডাইনিং পরিসরে নতুন একটি সংযোজন ঘটল। ঐতিহ্যবাহী স্বাদ, নান্দনিক পরিবেশনা ও আন্তরিক সেবার সমন্বয়ে অতিথিদের জন্য স্মরণীয় খাবারের অভিজ্ঞতা তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
/এমটি
আরও পড়ুন
পূজায় দিনভর থাকুন সতেজ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
পূজার কয়েকটি দিন অনেকেই ব্যস্ত থাকেন এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনায়। তবে দীর্ঘ সময় হাঁটা, যানজট, অতিরিক্ত ভিড়, গরম ও অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে এই আনন্দের ঘোরাঘুরি কখনো কখনো ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই পূজার আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে আগে থেকেই কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। লিখেছেন মুশফিরাত
আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন
পূজায় ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে হুটহাট পরিকল্পনার বদলে আগে থেকেই একটি সহজ তালিকা তৈরি করা ভালো। কোন দিন কোন এলাকার মণ্ডপগুলো ঘুরবেন, কোন পথে যাতায়াত করবেন এবং কোথায় বিরতি নেবেন এসব আগে ঠিক করে রাখলে অযথা সময় ও শক্তি নষ্ট হবে না।
একই এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি মণ্ডপ একসঙ্গে ঘুরে নেওয়া যেতে পারে। এতে বারবার দূরে যাতায়াতের ঝামেলা কমবে। পাশাপাশি দিনের ব্যস্ত সময় এড়িয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে বের হলে ভিড় ও যানজট থেকেও কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
আরামদায়ক পোশাক বেছে নিন
পূজার সাজে সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি আরামকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে খুব ভারী, আঁটসাঁট বা অস্বস্তিকর পোশাক এড়িয়ে চলা ভালো। কটন, খাদি বা হালকা কাপড়ের পোশাক এ ক্ষেত্রে বেশ আরামদায়ক হতে পারে।
পোশাকের সঙ্গে জুতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পূজার ঘোরাঘুরিতে অনেকটা হাঁটতে হতে পারে। তাই নতুন জুতা পরে প্রথমবার দীর্ঘ সময় হাঁটার বদলে আগে থেকে ব্যবহার করা আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল বেছে নেওয়া ভালো। শুধু ফ্যাশনের কথা ভেবে অস্বস্তিকর জুতা পরলে পায়ে ব্যথা বা ফোসকা তৈরি হয়ে পুরো আনন্দটাই মাটি হতে পারে।
পানি পান করতে ভুলবেন না
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গরম বা ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে এবং ঘোরাঘুরির মাঝেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
সঙ্গে ছোট পানির বোতল রাখা যেতে পারে। খুব বেশি তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে সময়মতো পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকবে। অতিরিক্ত কোমল পানীয় বা খুব মিষ্টি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ পানিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।
সময়মতো খাবার খান
পূজার ব্যস্ততায় অনেকেই সময়মতো খাবার খাওয়ার কথা ভুলে যান। এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরতে গিয়ে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই বের হওয়ার আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো।
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সঙ্গে হালকা শুকনো খাবার বা ফল রাখা যেতে পারে। মণ্ডপের আশপাশে খাবার খাওয়ার সময়ও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ খাবারের দোকান বেছে নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার একসঙ্গে বেশি না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
মাঝে মধ্যে বিশ্রাম নিন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি মণ্ডপ ঘোরার পর কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। এতে পায়ের ওপর চাপ কমবে এবং শরীরও কিছুটা সতেজ হবে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যারা দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে অভ্যস্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে বিরতির বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ করতে গেলে প্রত্যেকের সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রোদ ও আবহাওয়ার কথা মাথায় রাখুন
দিনের বেলায় বাইরে বের হলে রোদের তীব্রতা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ছাতা, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন সঙ্গে রাখা যেতে পারে। আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে বলে ছোট ছাতা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যাগে রাখাও কাজে আসে।
অন্যদিকে, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে অতিরিক্ত পোশাক বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী সঙ্গে রাখলে ভোগান্তি কমবে।
ব্যাগ হালকা রাখুন
ঘোরাঘুরির সময় বড় ও ভারী ব্যাগ বহন করলে কাঁধ ও পিঠে চাপ পড়তে পারে। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অতিরিক্ত কিছু ব্যাগে না রাখাই ভালো। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টিস্যু, পানি ও সামান্য টাচআপ সামগ্রী রাখার জন্য ছোট ও আরামদায়ক ব্যাগ বেছে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন
পূজায় ত্বক ভালো রাখতে...
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
উৎসবের দিনগুলোয় ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় ত্বকের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যান অনেকেই। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, ধুলোবালি, রোদ, ঘাম, ভারী মেকআপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ত্বককে সুস্থ রাখা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী
মুখ পরিষ্কার রাখুন
পূজার সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার কারণে মুখে ধুলোবালি, ঘাম ও তেল জমতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। এতে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে।
সানস্ক্রিন ব্যবহারে অবহেলা নয়
পূজার সময় দিনের বড় একটি অংশ বাইরে কাটতে হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুখ, গলা, কানের আশপাশ এবং শরীরের যেসব অংশ পোশাকে ঢাকা থাকে না, সেসব জায়গায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। ছাতা, টুপি ও সানগ্লাসও রোদ থেকে সুরক্ষা পেতে সহায়তা করে।
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখুন
ত্বক ভালো রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই। অনেকের ধারণা, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হয় না। এটি ঠিক নয়। তৈলাক্ত ত্বকেও আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে হালকা ও তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার উপযোগী হতে পারে।
মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য স্যাঁতসেঁতে থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে রোদে ঘোরাঘুরি ও দীর্ঘ সময় মেকআপ ব্যবহারের পর ত্বকের পরিচর্যায় এই অভ্যাস উপকারী।
মেকআপ তুলে ঘুমাতে যান
পূজার সাজে মেকআপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দিনশেষে তা ভালোভাবে তুলে ফেলা জরুরি। দীর্ঘ সময় মেকআপ ত্বকে রেখে দিলে কারও কারও ক্ষেত্রে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ত্বকের জ্বালাপোড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। মেকআপ তুলতে ত্বকের উপযোগী মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। চোখের মেকআপ তোলার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন চোখের আশপাশে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না হয়। যত রাতই হোক, মেকআপ না তুলে ঘুমানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
উৎসবের ব্যস্ততায় অনেকেই নিয়মিত পানি পান করতে ভুলে যান। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখতে পারেন।
পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যাবে, এমন নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করলে সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে সুবিধা হয়।
খাবারে রাখুন পুষ্টির সমন্বয়
পূজার সময় মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন। এসব খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
নতুন প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা
উৎসবের আগে নতুন প্রসাধনী কেনার প্রবণতা থাকে। তবে প্রথমবার নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি, লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে নির্দেশনা অনুযায়ী ত্বকের ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে সুগন্ধিমুক্ত ও ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী বেছে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে একসঙ্গে অনেক নতুন পণ্য ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পণ্যটির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
পূজার রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরা কিংবা সকালে দ্রুত বের হওয়ার কারণে ঘুমের সময় কমে যেতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই উৎসবের ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখার চেষ্টা করুন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস ত্বকের পরিচর্যায় সহায়ক। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো এবং শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।
