সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকা তুলবে কনফিডেন্স পাওয়ার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->দেশে তীব্র গ্যাসসংকট ও ব্যয়বহুল আমদানি করা জ্বালানির পটভূমিতে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি প্রতিনিধি কনফিডেন্স পাওয়ার। কক্সবাজার, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোট ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের রূপরেখা ঘোষণা করেছে তারা।
এই মেগা প্রকল্পের একটি অংশ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইপিও-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন জমি কেনা এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা হবে আগের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে এবং ২ শতাংশ অর্থ আইপিওসংশ্লিষ্ট খরচ বাবদ রাখা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির একক সম্পদের পরিমাণ ৫১৬৩ কোটি টাকা। বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে ফার্নেস তেলচালিত নিজস্ব ৩৯৩ মেগাওয়াটের সফল বিদ্যুৎকেন্দ্র সামলানোর পর এবার পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা সোলার প্যানেলে ব্যবসার বড় বৈচিত্র্য আনতে চলেছে নবগঠিত এই কনসোর্টিয়াম।
আরও পড়ুন
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বগুড়া ও রংপুরের সবুজে ঘেরা বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানান, দেশে গ্যাসের সংকট শিগগিরই মিটবে না। তাই আরও অনেক দিন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে তরল জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ভরসা করতে হবে। তবে বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে কনফিডেন্স পাওয়ারও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে কনফিডেন্স পাওয়ার। এর মধ্যে কক্সবাজার ও বাগেরহাটে ১০০ মেগাওয়াট করে মোট ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে যৌথ অংশীদার হিসেবে আছে বিদ্যুৎ খাতের আরেক পুরোনো কোম্পানি ডরিন পাওয়ার। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কনফিডেন্স।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে টাকা তুলতে যাচ্ছে কনফিডেন্স। বিনিয়োগকারীদের সামনে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব তুলে ধরতে গতকাল রোড শোর আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের ৮৩ শতাংশ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি কেনা ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে খরচ করা হবে। বাকি ১৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ও ২ শতাংশ আইপিওসংশ্লিষ্ট খাতে খরচ করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে ৩৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কনফিডেন্স পাওয়ারের। এর মধ্যে ৩৩৯ মেগাওয়াট উত্তরবঙ্গে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ৫৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে তাদের।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও বিদ্যুতের চাহিদা-সরবরাহ নিয়ে একটি নিবন্ধ তুলে ধরেন ইমরান করিম। এতে বলা হয়, প্রতিবছর ৬ শতাংশের বেশি হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদনের সক্ষমতা সাড়ে ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অভাবে ৭ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে আরও প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে এ খাতে ১৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা ব্যবহার করার মতো থাকে, যা জ্বালানির অভাবে সব সময় চালানো যায় না।
ইমরান করিম বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা আছে। গ্যাস সরবরাহ শিগগিরই বাড়বে না। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেই ভরসা করতে হবে আমাদের। সরকারও সেদিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার। এর আগে মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এনেছে। সাত বছর ধরে নিয়মিত সরবরাহ করছে।’ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও তারা সাফল্য পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দরপত্রেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার। বর্তমানের ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতাকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালেই ১ হাজার মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এরপর এটি আরও বাড়িয়ে ২ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার কথা ভাবছে কোম্পানিটি। ব্যাটারিশিল্পেও বিনিয়োগ আছে কোম্পানিটির। তারা বলছে, দেশের চলমান জ্বালানিসংকটের সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন
সরকারি কর্মচারীদের আবাসন: ২০০ কোটি টাকায় হচ্ছে ১৮৪ ফ্ল্যাট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস
-->চাহিদা থাকলেও প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবীকে আবাসন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসনসংকট দূর করতে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় নির্মাণ করা হবে এসব ফ্ল্যাট।
এ-সম্পর্কিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী রবিবার সকাল ১০টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর। এটিসহ সভায় ১৫টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে উন্নততর সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ জন্যই গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তা দুই বছরে অর্থাৎ ২০২৬-এর এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের অক্টোবরে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়।
আরও পড়ুন
প্রকল্পটির আওতায় ১৩ তলা ভিতের ওপর তিনটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ভবনে প্রতি ফ্লোরে ছয়টি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে মোট ৬৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। অপর ভবনটিতে প্রতি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে আরও ৪৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। তিনটি ১৩ তলা ভবনে মোট ১৮৪টি ইউনিটে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হবে–৩১ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৩ বর্গমিটারের মূল ভবন নির্মাণ (বেসমেন্ট ফাউন্ডেশন, স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগসহ) ভবন ১, ২, ৩ এবং স্টাফ ডরমিটরিসহ সার্ভিস ভবন। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণে খরচ করা হবে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চারটি স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে খরচ হবে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চার সেট বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও তার যন্ত্রপাতি–ট্রান্সফরমার কেনা হবে ৪ কোটি ৬ লাখ টাকায়। এ ছাড়া চার সেট এইচটি, এলটি, পিএফআই প্যানেল ও অন্যান্য কাজ করা হবে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। ৯ সেট ১০০ কেভিএ জেনারেটর (এটিএস ও ক্যানোপিসহ) কেনা হবে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। তিনটি ১ হাজার ২৫০ কেজি পেসেঞ্জার লিফট, ১ হাজার ২৫০ কেজি ফায়ার লিফট পাঁচটি ও ১ হাজার কেজি ফায়ার লিফট একটি (মোট ৯টি) কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৫৭৫ মিটার সীমানাপ্রাচীর, গেট এবং গার্ড রুমও নির্মাণ করা হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এভাবে মোট প্রকল্পের হিসাব বেড়ে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে।
তা যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল-২০২২ অনুযায়ী পুনরায় যাচাই করাসহ বিভিন্ন ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের চতুর্থ অধ্যায়ের ‘নগরায়ণ ও আবাসন’ খাত সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোপূর্বে অনুমোদন দিয়েছেন।
দখলমুক্ত রাখতে আধুনিক ১৩ তলা ভবন
সূত্র জানায়, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মতে, ২০১৫ সালে ঢাকা মহানগরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন। যার বিপরীতে নির্মিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫২টি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে মাত্র ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেতেন। বিগত বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে আবাসন সুবিধা এখনো বৃদ্ধি পায়নি। ফলে এই সংকট বর্তমানে আরও তীব্র ও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ২০৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০টি, যা মোট কর্মচারীর প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি, যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী সরকারি আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জায়গায় একটি আধুনিক বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার স্থানটি বর্তমানে ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বেদখলের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রকল্পটি গ্রহণ সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরও উন্নত সেবা প্রাপ্তি সম্ভব হবে। এ জন্য একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
চিংড়ি চাষে রেণুর সংকট, দামও বেশি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব চিংড়িচাষি দেলোয়ার তরফদার। চলতি বছর জমানো টাকা ও ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু বছরের শুরুতেই ঘেরে মড়ক লাগায় বাগদা চিংড়ি মরতে শুরু করে। পরে ঋণ নিয়ে আবারও বাগদার পোনা ছাড়েন তিনি। বড় হওয়ার আগে ভাইরাসের সংক্রমণে সেগুলোও মারা যায়।
বড় ধাক্কা সামলে গলদা চিংড়ি চাষের প্রস্তুতি নিলেও এবার সংকট রেণু সংগ্রহ নিয়ে। চাহিদামতো রেণু না পেয়ে কয়েক দফায় বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। সময়মতো রেণু ছাড়তে না পারায় ফের লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। গত বুধবার বিকেলে ঘেরে বসে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দেলোয়ার তরফদার বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চিংড়ি চাষ করছি। এবার দফায় দফায় বাগদা চিংড়ি মারা গেছে। ফলে খরচের টাকাই ওঠেনি। অপরদিকে তার ১০০ বিঘার বেশি আয়তনের ঘেরে দেড় লাখ গলদার রেণু প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পাঁচ-সাতবার আড়তে গিয়েও একসঙ্গে প্রয়োজনীয় রেণু পাননি। প্রতিবার বেশি দামে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার করে রেণু কিনতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী কাড়াপাড়া গ্রামের চিংড়িচাষি শামীম হাসানের। বছরের শুরুতে বাগদার পোনা ছাড়লেও ধরার উপযোগী হওয়ার আগেই সেগুলো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এপ্রিল থেকে জুন গলদার রেণু ছাড়ার মৌসুম। তবে মৌসুম শেষ হতে চললেও চাহিদামতো রেণু সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। কয়েক বার আড়তে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। বাগদার ক্ষতি ও রেণুর সংকটে লোকসানের আশঙ্কা করছেন এই চাষিও।
ডেমা এলাকার চিংড়িচাষি সবুজ তরফদার বলেন, এ বছর ৪৫ হাজার রেণু ছাড়লেও একসঙ্গে পাইনি। আড়তে সংকট থাকায় প্রতিবার ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার করে কিনতে হয়েছে। রেণুর দাম বেশি হওয়ায় এবং বারবার যাতায়াত করতে হওয়ায় খরচ বেড়েছে।
বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগেরহাটে সরকারি ও বেসরকারি গলদা হ্যাচারির বেশ কয়েকটি বন্ধ থাকায় রেণুর সরবরাহ কমেছে। একদিকে মানসম্মত রেণুর সংকট, অন্যদিকে বেড়েছে দাম। সংকট নিরসনে বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় ৫৪ হাজার ৮৪৮টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে বছরে ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে হ্যাচারিগুলোতে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ পূরণ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফুলবাড়ী এলাকার ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ঝোপঝাড় ও আগাছায় ছেয়ে গেছে এর চারপাশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অবকাঠামোর যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে।
একই অবস্থা বাগেরহাট প্রণ হ্যাচারি ও মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির। একসময় রেণু উৎপাদন ও সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাচারিগুলো এখন বন্ধ।
চিংড়িচাষি হুমায়ুন শেখ বলেন, এ বছর চাহিদা অনুযায়ী রেণু ছাড়তে পারিনি। রেণুসংকট থাকায় দামও অনেক বেশি। পর্যাপ্ত রেণু ছাড়তে না পারায় বছর শেষে লাভ তেমন হবে না। আমাদের এই হ্যাচারিগুলো অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আমাদের অনেক দূর থেকে রেণু আনতে হয়। এতে অনেক পরিবহন ব্যয় বাড়ে। যদি বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু হয় তাহলে আমরা চাষিরা এই জায়গা থেকেই পোনা নিতে পারব।
ফকিরহাট উপজেলার মৌভূক এলাকার মৎস্যচাষি দীপক চৌধুরী বলেন, আগে রেণুর দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। এ বছর রেণুর দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। এই দামেও পর্যাপ্ত রেণুও পাওয়া যায়নি আড়তে। আমার ১০ বিঘা ঘেরে মাত্র ৪ হাজার রেণু ছাড়তে পারছি। রেণু না পাওয়ায় এ বছর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হবে।
ফকিরহাটের রেণুর আড়তদার সালাম শেখ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভর করে। আমাদের ফকিরহাটের ৬০টির মতো রেণুর আড়ত রয়েছে। এ বছর চিংড়িচাষিরা রেণু নিতে এসে ফিরে গেছেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী রেণু দিতে পারিনি। এতে চিংড়িচাষি ও আমরা আড়তদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ বছর হ্যাচারি থেকে যে রেণু পেয়েছি তা চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ। বাকি চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ভোলা, পটুয়াখালী জেলার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু ও ভারত থেকে আসা রেণুর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু সরকার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু এবং ভারতীয় রেণু ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করায় রেণুসংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, সরকারি হিসাবে গলদা রেণুর চাহিদা প্রায় ৬০ কোটি। তবে বাস্তবে চাহিদা আরও বেশি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারি মিলিয়ে বছরে দুই থেকে আড়াই কোটি রেণু পাওয়া যায়। বন্ধ বেসরকারি হ্যাচারিগুলো চালু করে রেণু উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সংকট কিছুটা কমবে।
একটি বন্ধ হ্যাচারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রহিম গাজী বলেন, প্রথম দফায় উৎপাদনে লোকসান হয়। পরে বিরতি দিয়ে আবার উৎপাদন শুরু করলেও লোকসান হয়। এরপর থেকে হ্যাচারিটি বন্ধ রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় গলদা চিংড়ির ৯টি হ্যাচারির মধ্যে ৫টি চালু এবং ৪টি বন্ধ। জেলায় ৫৮ কোটি রেণুর চাহিদা রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। হ্যাচারিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরুর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে সাড়া না পাওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের জন্য চূড়ান্ত পত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নদী থেকে রেণু আহরণ ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ করায় আমরা কঠোরভাবে নজরদারি করেছি। অবৈধভাবে বাইরের দেশ থেকে যদি বাংলাদেশে কোনো রেণু আসে তাহলে গলদা চিংড়ি চাষে নতুন রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। চাষিদের চাহিদা মেটাতে খুলনাতে কয়েকটি হ্যাচারি স্থাপনের কাজ চলছে। এই হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও অনেক। হ্যাচারিগুলো উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করলে রেণুর আর সংকট হবে না।
আরও পড়ুন
দরপতনে পুঁজিবাজার, লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স
-->দরপতনের সঙ্গে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল শনিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এতে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর ডিএসইতে সবচেয়ে কম লেনদেন হলো। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত গতি না ফেরায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সূচকের ওঠানামা ও লেনদেনের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম ২ ঘণ্টা শেষেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে বাজারে একপ্রকার ঢালাও দরপতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সব কটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে মাত্র ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১২০টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৫৭টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫২টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া ৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর ডিএসইতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। গত ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে ৩০৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকার। ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মতিন স্পিনিং।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সোনালি আঁশ, ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিটি ব্যাংক এবং সোনালি লাইফ।
গতকাল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আরডি ফুড, গোল্ডেন সন, প্যাসিফিক ডেনিমস, আইসিবি সোনালি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং নুরানি ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার।
এদিন ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি)। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা রেনউইক, যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য সিকিউরিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আইবিবিএল দ্বিতীয় পারপেচুয়াল বন্ড, ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড, ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড, ১৫ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড এবং এপেক্স ফুডস লিমিটেড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ৫৯টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
ফরিদপুরে সাগর কলার ভালো ফলন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ফরিদপুরের বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে কয়েক হাজার কলা গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন হাফিজুর রহমান সরদার (৪৫)। মাছ চাষ থেকে শুরু করে ফিলিপাইন জাতের আখ চাষসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজে হাত দেওয়ার পর এবার সবুজ রঙের সাগর ও চাপাসব্রি জাতের কলা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি।
প্রায় চার একর জমিতে রোপণকৃত কলাবাগানে সাগর কলা ও চাপাসব্রি জাতের ২ হাজার সাত শ কলাগাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি সাগর কলা গাছের চারা গত বছরের আশ্বিন মাসে রোপণ করা। এসব গাছের অধিকাংশেই এখন ধরেছে কলা। বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে ফলনে ভরা গাছের সারি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফিজুর রহমান সরদার জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি বোয়ালমারীর সৈয়দপুর এলাকায় বসবাস করছেন। বোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম হামিদুল বারী বরুণ মিয়ার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন নতুন এই উদ্যোগ। যে জমির একটি বড় অংশ আগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, সেটিই পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করেন তিনি।
আরও পড়ুন
জানা গেছে, বাগান থেকে পরিপক্ব কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার পর সেই গাছের গোড়া থেকে আবার নতুন গাছ হয়ে তাতে ফলন আসছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কাঁদি রঙিন সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কাঁদি কলা আকার ও মানভেদে পাইকারি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে নিয়মিত বিক্রির মাধ্যমে দ্রুতই বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে বলে আশা করছেন কৃষক। তবে শুধু কলা বিক্রি করেই আয় নয়, গাছের গোড়ায় জন্ম নেওয়া চারাও এখন বাড়তি আয়ের উৎস। প্রতিটি পরিপক্ব গাছের গোড়ায় তিন থেকে চারটি করে চারা পাওয়া যাচ্ছে। এসব চারা স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি কলাগাছ। কোথাও পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বিশাল কাঁদি, কোথাও আবার পরিপক্ব কলার ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। বাতাসে দুলছে প্রশস্ত সবুজ পাতা। দূর থেকে দেখলে সাধারণ কোনো কলাবাগান মনে হলেও কাছে গেলেই চোখে পড়ে ভিন্নতা। ছোট আকৃতির গাছে ঝুলছে বড় বড় কাঁদি–এ যেন সবুজের মাঝে সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।
হাফিজুর রহমান বলেন, বাগান তৈরির শুরু থেকে ফলন আসা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি এক লাখ টাকার সাগর কলা বিক্রি করেছেন। গাছে যে কলা রয়েছে, তাতে তিনি আশাবাদী–সব মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন।
হাফিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মাছ চাষের পর ফিলিপাইন জাতের আখ চাষ করি। পরে নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই কলা চাষে আগ্রহী হয়েছি। অন্যের পরিত্যক্ত জমি লিজ নিয়ে পরিষ্কার করে কলার চারা রোপণ করি। শুরুতে বুঝতে পারছিলাম না ফলন কেমন হবে। নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকি। প্রায় ১০ মাস পর যখন গাছে গাছে কলা ধরতে শুরু করল, তখন নিজের কাছেই খুব ভালো লাগতে থাকে। এখন প্রতিদিন বাগান থেকে কলা বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, একসময় যশোর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরনের কলা আসত। এখন বোয়ালমারীর মাটিতেই আমরা চাষ করছি। ভবিষ্যতে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কলা পাঠাতে চাই। এলাকার বেকার যুবকরা যদি আধুনিক ও লাভজনক কৃষির দিকে এগিয়ে আসেন, তাহলে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এদিকে, নতুন জাতের কলার বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের মানুষও দেখতে আসছেন। অনেকে বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কলা, আবার কেউ ভবিষ্যতে চাষের জন্য চারা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, আগে জানতাম সাগর কলা বাইরে থেকে আসে। আমাদের এলাকার পাশেই যে এভাবে চাষ হচ্ছে, তা জানতাম না। বাগানে এসে খুব ভালো লেগেছে। প্রথম যখন চারা রোপণ করি, তখন মানুষ বলাবলি করত এ লোক পাগল নাকি–এই জমিতে সাগর কলা চাষ হবে। এখন সবাই অবাক। আমি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজে বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জমির মালিক এ কে এম হামিদুল বারী বরুণ মিয়া বলেন, হাফিজুর রহমান আমার জমি লিজ নিয়ে কলার আবাদ করছেন। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত কলার একটি অংশ আমাকে দেওয়া হবে। চাষের যাবতীয় খরচ তিনিই করছেন। কলার আকার, চেহারা ও ফলন দেখে আমি সন্তুষ্ট। আমাদের এলাকায়ও এ ধরনের কলার আবাদ হচ্ছে। এটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। কলা পুষ্টিকর একটি ফল। স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন বাড়ানো গেলে এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়বে। এ জাতের কলা উপজেলার মধ্যে বড় পরিসরে এই প্রথম চাষ করা হয়েছে।
