গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে পৌরসভার সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। মনোনয়ন পেলে শ্রীপুর পৌরসভার সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
সম্প্রতি দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবন, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা এবং পৌরবাসীর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরু এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেছি। দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দলের দুঃসময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আদর্শ থেকে সরে যাইনি।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন।
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন নির্বাচনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটি অংশগ্রহণ করেছে—এমন বিভিন্ন জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং দলীয় প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
দৈনিক সংগ্রাম: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: ১৯৭৩ সালে তৎকালীন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুমতিক্রমে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিই। আমার দাবি, ওই নির্বাচনে বিজয়ী হলেও তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের সময়ে ফলাফল পরিবর্তন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
দৈনিক সংগ্রাম: এবার শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন কেন?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। দলের বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। এবারও শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাই। আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগাতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করব। জনগণের সমর্থন নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভায় বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
দৈনিক সংগ্রাম: পৌরসভার ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: শ্রীপুর পৌরসভার সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতে চাই। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে শ্রীপুর পৌরসভার সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব। আমি চাই, তাঁরা যেন সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা পান।
দৈনিক সংগ্রাম: শিক্ষা বিস্তারে আপনার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাই।
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছি। আমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল মাদরাসা, ভাংনাহাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা, ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মমতাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-হারামাইন হিফজ মাদরাসা এবং জ্ঞান আহরণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি মনে করি, শিক্ষার প্রসার ছাড়া কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনার রাজনৈতিক জীবনে মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আমাকে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। তারপরও দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিইনি।
দৈনিক সংগ্রাম: দলীয় মনোনয়ন পেলে শ্রীপুর পৌরসভা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী থাকবে?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: দলীয় মনোনয়ন পেলে আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করব। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। জনকল্যাণ, শিক্ষার প্রসার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা রক্ষায় উদ্যোগ নিতে চাই। জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হতে পারলে তাঁদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করব।
দৈনিক সংগ্রাম: বিএনপির নেতাকর্মী ও পৌরবাসীর উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?
পীরজাদা এস এম রুহুল আমীন: আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে কাজ করার চেষ্টা করেছি। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান, ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করুন। আর পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমার অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শ্রীপুর পৌরসভায় বিএনপির বিজয় উপহার দিতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
