জেলে বসে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করেন, কে এই গ্যাংস্টার লরেন্স?
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর কারাবন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ নেটওয়ার্ক, বিদেশি হ্যান্ডলারদের ভূমিকা এবং ভিআইপিদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে ফের জোর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জেলের আড়ালে থাকলেও একের পর এক হামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম উঠে আসছে। কারাগারের দেয়াল ভেদ করে কীভাবে এই সিন্ডিকেট শুটার নিয়োগ করে এবং অপরাধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
গত রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল গ্রাউন্ড থেকে বের হওয়ার সময় ৩৬ বছর বয়সী অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধীরগতিতে চলতে থাকা গাড়ির সামনের আসন লক্ষ্য করে অন্তত দুজন দুষ্কৃতকারী খুব কাছ থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে অভিনেতার গাড়িচালকসহ দুইজন আহত হন। অবশ্য টাইগার শ্রফ অক্ষত রয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার রাজস্থান থেকে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
বিদেশে বসে যেভাবে পরিচালিত হয় এই নেটওয়ার্ক
বিভিন্ন মাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ চক্রটি বেশ কয়েকটি স্তরে কাজ করে। যার ফলে যারা টার্গেট নির্ধারণ করে বা হামলার পরিকল্পনা করে, তাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে হামলা চালাতে যাওয়া শুটারদের কখনোই সরাসরি দেখা বা পরিচয় হয় না।
সাধারণত বিদেশে অবস্থানরত একজন হ্যান্ডলার ওপর থেকে নির্দেশনা পাঠান। এরপর স্থানীয় সহযোগীরা সেই অনুযায়ী অর্থ, অস্ত্র, বাসস্থান ও নজরদারির (রেকি) ব্যবস্থা করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শুটাররা হামলা চালিয়ে পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মগোপনে চলে যায়। স্তরীভূত এই ব্যবস্থার ফলে সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতারা সবসময় নিরাপদে থাকে।
এমনকি কোনো শুটার অস্ত্র সরবরাহকারীকে চিনলেও এই হামলার মূল অর্থায়নকারী কে, তা সে জানতে পারে না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্তেও ঠিক একই ধরনের জটিল কাঠামোর প্রমাণ মিলেছিল।
হামলাকারীদের পলায়ন ও রাজস্থানে গ্রেপ্তার
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পর অভিযুক্তরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে স্থান পরিবর্তন করে। মুম্বাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থানের কোটা জংশন থেকে পুলিশ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে। কোটার পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম জানান, সাদা পোশাকের পুলিশ টিম মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে রেলস্টেশন ঘেরাও করে তাদের ধরে ফেলে।
মৌলিক তদন্তের বরাতে মুম্বাই অপরাধ শাখার ডিসিপি রাজতিলক রশন জানান, অপরাধীরা হামলার পর অন্ধেরী পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে তাদের মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে লোকাল ট্রেনে চেপে বরিবলি যায়। সেখান থেকে ট্যাক্সিযোগে সুরাট পৌঁছে তারা জয়পুর এক্সপ্রেসে ওঠে। সেখান থেকেই তাদের আটক করে কোটা পুলিশ। আটককৃতদের আদালতে হাজির করা হবে।
কে এই অনিল পন্ডিত?
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনিল পন্ডিত নামে এক গ্যাংস্টারের অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এতে সে ও হারমান সান্ধু মিলে এই হামলার পরিকল্পনা করেছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, টাইগার শ্রফ আগের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য বলিউড ব্যক্তিত্বদের হুমকি দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে অভিনেতা সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
হরিয়ানার পানিপথের বাসিন্দা অনিল পন্ডিত ২০২৪ সালে বেআইনি উপায়ে ('ডংকি' রুট ব্যবহার করে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভারত ছাড়ার সময় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই পুরো গ্যাংকে 'লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' (OCG) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই চক্রটি নিজেদের কর্মকাণ্ড চালানের জন্য নিয়মিতভাবে বড় বড় ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে থাকে।
সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ড
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাবেক রাজ্যমন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা। এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ছয় মাস আগেই সালমান খানের বাড়ির সামনে গুলি চালানো হয়েছিল। এই দুই ঘটনাই মুম্বাইয়ের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ভয়াল উপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট করে।
বাবা সিদ্দিকী অভিনেতা সালমান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে থাকা অবস্থাতেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই গ্যাংয়ের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়। সেই তদন্তে পুলিশ লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ জিশান আখতারসহ একাধিক পরিকল্পনাকারীর নাম সামনে আনে।
তবে সিদ্দিকীর পরিবার এটি কেবল গ্যাংয়ের শত্রুতা নাকি বান্দ্রার বস্তি পুনর্বাসন ও জমি সংক্রান্ত কোনো গভীর চক্রান্ত, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: আউটলোক
আজহার/
আরও পড়ুন
চীনা লোকনৃত্যের দুই মুদ্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মাদনা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
ভাইরাল নাচের মুদ্রা
-->হঠাৎ শরীর ঘুরিয়ে নেওয়া, দ্রুত এক পা থেকে অন্য পায়ে ভর সরানো কিংবা জোরে কাঁধ ঝাঁকানো— প্রায় এক দশক আগে বেইজিংয়ের একটি নাচের ক্লাসে শেখানো এসব মুদ্রা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর অনুপ্রেরণায় লাখ লাখ মানুষ চীনা লোকনৃত্য শেখার চেষ্টা করছেন।
চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দেওয়া নাম অনুযায়ী, ‘শানশেন স্টেপ’ ও ‘বেয়ার শেকিং অফ ইটস ফার’—এই দুই নাচের মুদ্রা অপ্রত্যাশিতভাবে ভাইরাল হয়েছে। এগুলো অনুকরণ করে নানা ভিডিও, হাস্যরসাত্মক সংস্করণ ও অনলাইন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন মানুষ।
কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘শানশেন স্টেপ’ আয়ত্ত করতে পারলে অফিসগামীদের ভিড়ে ঠাসা মেট্রোতে সহজেই জায়গা করে নেওয়া যাবে। আবার কেউ কাজ ফাঁকি দিয়ে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করতে এসব মুদ্রা ব্যবহার করছেন। সময়ের সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। অনেকে নিজেদের মতো করে নাচের মুদ্রায় পরিবর্তন আনছেন। মজার মাত্রা বাড়াতে যুক্ত করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি চরিত্রও।
আরও পড়ুন
তবে মজার এই মুদ্রাগুলো ইন্টারনেটে তৈরি হয়নি। দুটিই চীনের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য থেকে এসেছে। প্রায় এক দশক আগে বেইজিং ড্যান্স অ্যাকাডেমির শিক্ষামূলক উপকরণের অংশ হিসেবে এগুলোর ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে মুদ্রাগুলো প্রদর্শন করেছিলেন চীনের নৃত্যজগতের সম্মানিত দুই অভিজ্ঞ শিল্পী চাও থিয়েছুন ও মিং ওয়েনচুন।
এখন চীনের বাইরেও ভিডিওগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মার্থা গ্রাহাম ড্যান্স কম্পানি আগামী নভেম্বরে চীনে পরিবেশনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে দলটির প্রধান নৃত্যশিল্পী সিন ইয়িং ও লয়েড নাইট এই প্রবণতায় যোগ দিয়ে নিজেদের মতো করে মুদ্রা দুটি পরিবেশন করেছেন। নৃত্যমুদ্রা দুটির অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা চীনা লোকনৃত্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
‘বেয়ার শেকিং অফ ইটস ফার’ এসেছে শানতোং প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য শানতোং কুচি ইয়াংক্য থেকে। এই নৃত্য সাধারণত পুরুষেরাই পরিবেশন করেন। এতে থাকে জোরালো শারীরিক মুদ্রা ও ছন্দবদ্ধ পদক্ষেপ। ঢোল এই নৃত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অনুষঙ্গ।
থিয়ান লুয়ের কাছে অবশ্য নৃত্যমুদ্রাগুলোর আকর্ষণ পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘লোকনৃত্যশিল্পীরা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করেন। তাদের মুদ্রায় কঠোর নিয়মের বাঁধাধরা কাঠামো থাকে না।‘
শানশেন স্টেপের প্রদর্শক চাও থিয়েছুন এই ভাইরাল জনপ্রিয়তাকে একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও বোধগম্য বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘এটি অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে এক অর্থে এমনটা ঘটতে পারে, সেটিও অনুমেয় ছিল। চীনা লোকনৃত্যের মধ্যে থাকা জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এসব শিক্ষামূলক ভিডিও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করছে। একই সঙ্গে এগুলো লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণেও সহায়তা করছে।‘
তবে ভাইরাল এই দুই নাচের মুদ্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছে সিসিটিভি নিউজের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এসব মুদ্রা অনুকরণ করলে হাঁটুতে আঘাত লাগার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি
আরও পড়ুন
ট্রেনে উচ্চস্বরে গান বাজালে হতে পারে জেল-জরিমানা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রেলযাত্রার সময় মোবাইল বা ডিভাইসের স্পিকারে উচ্চস্বরে গান শোনা কিংবা ভিডিও দেখার অভ্যাস থাকলে এবার বড় মাশুল গুনতে হতে পারে। সহযাত্রীদের শান্ত ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্রেনের ভেতর এবং রেলওয়ে স্টেশনে মোবাইল ফোনের স্পিকারে উচ্চশব্দে গান বা অডিও বাজানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতের সাউদার্ন রেলওয়ে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেনে বা স্টেশনে স্পিকারে উচ্চশব্দে গান বা ভিডিও বাজালে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর রেলকর্মীদের সতর্ক করার পরও যদি কেউ বারবার একই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তার ৬ মাস পর্যন্ত জেল এবং ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব যাত্রীকে অবশ্যই ইয়ারফোন ব্যবহার করার এবং অন্যের সুবিধার কথা মাথায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাউদার্ন রেলওয়ের চেন্নাই সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, ট্রেন ও স্টেশনে স্পিকারে উচ্চস্বরে গান বা অডিও বাজানোর ফলে অন্যান্য যাত্রীদের মারাত্মক অসুবিধা হয় এবং তা তাদের যাত্রা ও বিশ্রামে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। এই সমস্যা সমাধানে রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগকে স্টেশন ও ট্রেনের পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম এবং নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে হিন্দি, ইংরেজি ও আঞ্চলিক ভাষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
রেলওয়ে আইনের ১৪৫ ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রেল চত্বরে বা ট্রেনে গোলমাল সৃষ্টি, অশালীন আচরণ বা অন্যদের বিরক্ত করার দায়ে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমার্শিয়াল কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাস বা টিকিট জব্দ করতে পারবেন। নির্দেশ অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রাখলে কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
দীর্ঘদূরত্বের ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা প্রায়ই মোবাইলে উচ্চশব্দে গান, ভিডিও এবং জোরে কথা বলার কারণে যে ভোগান্তির শিকার হন, তা দূর করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে যুক্ত হলো বারমুডা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একগুচ্ছ শব্দ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বারমুডা এবং পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এক ডজনেরও বেশি শব্দ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এই তালিকার শুরুতেই রয়েছে বারমুডিয়ান শব্দ বিম্পার্ট। অজানা উৎস থেকে আসা এই শব্দটি সাধারণত নির্বোধ বা বোকা কোনো ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। উত্তর আটলান্টিকের এই ছোট্ট দ্বীপের মানুষেরা প্রায়ই একটি ঐতিহ্যবাহী বাক্যে এটি ব্যবহার করেন: A bimpert is justah wuffless bye, যার সরল অর্থ হলো একটি আহাম্মক বা বোকা হলো কেবলই এক অপদার্থ ছেলে।
আরও পড়ুন
আরেকটি বৈচিত্র্যময় নতুন সংযোজন হলো হর্নারম্যান। এটি ১৯৭৫ সাল থেকে পূর্ব ক্যারিবীয় দ্বীপ ট্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে অবিশ্বস্ত কোনো পুরুষ বা অন্য কারো সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত পুরুষকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ট্রিনিদাদের এক মুদি দোকানদার লিওনার্দো আলেকজান্ডার হর্নারম্যান শব্দটি অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবরে হেসে উঠে বলেন, স্থানীয় ভাষায় horn বলতে অবিশ্বস্ত হওয়া বোঝায় এবং এখন পুরো বিশ্ব এমন কাজ করা পুরুষকে ডাকার উপযুক্ত শব্দটি জানতে পারবে।
তিনি বলেন, এটি আমাদের ঐতিহ্য, এই শব্দগুলো শুনেই আমরা বড় হয়েছি।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে যদি কেউ এ ধরনের অবিশ্বস্ততার কথা জানতে পারে, তবে তারা to get on প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে যার অর্থ তীব্র আবেগ প্রকাশ করা বা হট্টগোল সৃষ্টি করা। অথবা হতে পারে to cut someone’s tail যার অর্থ কাউকে প্রহার বা মারধর করা।
অবিশ্বস্ততার এমন ঘটনার পরিণতি হিসেবে কোনো নারীর প্রয়োজন হতে পারে vex money। এই শব্দটি মূলত কোনো জরুরি অবস্থা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য কোনো নারীর নিরাপদ স্থানে রাখা বা সঙ্গে বহন করা টাকাকে বোঝায়।
অভিধানে যুক্ত হওয়া তুলনামূলক অলৌকিক ও রহস্যময় শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্যাবলেস। একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এমন এক ক্ষতিকারক রূপ পরিবর্তনকারী নারী আত্মা হিসেবে, যার একটি পা ছাগলের মতো খুরযুক্ত। কথিত আছে, রাতের বেলায় এরা পুরুষদের প্রলুব্ধ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে সুন্দরী নারীর রূপ ধারণ করে। শব্দটি ফরাসী শব্দ diablesse (নারী পিশাচ) থেকে এসেছে।
অন্য একটি অলৌকিক শব্দ হলো ডুয়েন। অভিধানের তথ্যমতে, এরা দেখতে খর্বাকৃতির, যাদের পা পেছনের দিকে ঘোরানো এবং মাথায় বড় টুপি থাকে। বিশ্বাস করা হয়, বাপ্তিস্ম (খ্রিস্টধর্মীয় নামকরণ সংস্কার) হওয়ার আগেই মারা যাওয়া শিশুর আত্মা হলো এই ডুয়েন, যারা নাম ধরে ডেকে শিশুদের বনে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়। এটি স্পেনীয় শব্দ ‘duende’ (পরী বা এলফ) থেকে এসেছে।
ট্রিনিদাদের ৪৫ বছর বয়সি রক্ষণাবেক্ষণ টেকনিশিয়ান অ্যাভিওনে জর্জ বলেন, ‘এই শব্দগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তরুণদের অনেকেই ডুয়েন বা লা জ্যাবলেসের মতো পুরোনো সময়ের শব্দগুলো সম্পর্কে কিছুই জানে না।
খাবার সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি শব্দও এ বছর যুক্ত করা হয়েছে।
শাদীশ: স্প্যানিশ চোরিজো সসেজকে বোঝাতে ব্যবহৃত বারমুডিয়ান শব্দ।
সুগার কেক: কুরানো নারিকেল, চিনি, পানি ও মসলা দিয়ে ফুটিয়ে তৈরি এক ধরণের মিষ্টি।
পিনাট পাঞ্চ: চিনাবাদাম বা পিনাট বাটার, দুধ, চিনি ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঘন ফেনা যুক্ত একটি পানীয়।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে কেউ হয়তো তার নানা বা নানীর সঙ্গে বসে এই পিনাট পাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন। হিন্দি থেকে আসা এই শব্দ দুটি সেখানে মাতামহ ও মাতামহীকে ডাকতে ব্যবহৃত হয়। আবার বারমুডায় কেউ হয়তো তার হ্যামা বা বন্ধুর সঙ্গে বসে এটি পান করবেন।
ট্রিনবাগোনিয়ান: যা ট্রিনিদাদ ও টোবাগো উভয় দ্বীপের অধিবাসীদের নির্দেশ করে।
ক্যানবুলে: যা ১৮০০-এর দশকে ট্রিনিদাদে দাসপ্রথার বিলুপ্তি উদযাপনের কার্নিভাল উৎসবকে নির্দেশ করে। ১৭০০-এর দশকের এক ফসল কাটার উৎসবকে ব্রিটিশরা দমন করার চেষ্টা করলে এর জন্ম হয়, যা স্মরণে আজও কার্নিভাল শুরুর প্রতীক হিসেবে রূপক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। canboulay শব্দটি এসেছে burning cane (আখ পোড়ানো) থেকে, যা অভিধানের মতে প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের প্রতীক।
ট্রিনিদাদের নির্মাণ শ্রমিক শেরউইন উইলিয়ামস বলেন, ‘অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে এই শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্তির ফলে বিশ্ববাসী তাদের ট্রিনিদাদীয় শিকড় বুঝতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের আঞ্চলিক গালি বা উপভাষা দিয়েই আমাদের আলাদাভাবে চিনতে পারে।’
উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে প্রায় পাঁচ লাখ শব্দ ও বাক্যাংশ রয়েছে, যা একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত শব্দের ইতিহাস ও বিবর্তন তুলে ধরে। সূত্র: ইউএস নিউজ
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ভাইরাল মিশরীয় ডাক্তারের শেয়ার করা নবজাতকের আয়েশি ভঙ্গি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জন্মের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই এক নবজাতকের অদ্ভুত আয়েশি ভঙ্গিমায় শুয়ে থাকার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
শিশুটির শান্ত মুখের অভিব্যক্তি ও মিষ্টি ভঙ্গিমা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা যেমন আনন্দ পেয়েছেন, তেমনই অনেকেই কৌতুক করে বলছেন কীভাবে মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে হয়, এই খুদে তা জন্মমুহূর্তেই বুঝে গেছে!
মিসরের কায়রোর শিশুস্বাস্থ্য ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর ইসলাম এলদেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নবজাতকটি দুহাত মাথার পেছনে রেখে এবং এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে বেশ নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিচ্ছে।
আরও পড়ুন
ভিডিওটির ক্যাপশনে ডাক্তার লিখেছেন, ‘বেবি কিং! আমার উচ্ছ্বাস ক্ষমার চোখে দেখবেন।’
সাধারণত জন্মের পরপরই নবজাতকদের কেঁদে ওঠার যে ছবি মানুষের মনে ভেসে ওঠে, তার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এই ভিডিওটিতে। শিশুটিকে বেশ শান্ত দেখাচ্ছিল। এই রিল্যাক্সড বা আয়েশি ভঙ্গিমা দ্রুতই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং শিশুটির অনায়াস আত্মবিশ্বাস নিয়ে মজাদার নানা মন্তব্য ভেসে আসতে থাকে।
অনেক নেটিজেন মুহূর্তটিকে অত্যন্ত মিষ্টি বলে আখ্যা দেন, আবার কেউ কেউ মজা করে বলেন যে এই শিশুটি প্রথম দিন থেকেই রিল্যাক্স করার শিল্পে দক্ষতা অর্জন করে নিয়েছে।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এ হলো 'জেন বিটা' যে ইতোমধ্যেই ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স শিখে গেছে। কোনো কাজ নেই, শুধু জীবন উপভোগ! হলে 'জেন আলফা' হয়তো ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড চাইত! আর এ তো পৃথিবীকে শুরুতেই 'ডু নট ডিস্টার্ব' মোডে রেখে দিয়েছে।’
অন্য একজন লিখেছেন, ‘এই পৃথিবীতে নবজাতকটি আগেই সম্পূর্ণ স্ট্রেস-ফ্রি বা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েই এসেছে।’
তৃতীয় একজন কৌতুক করে বলেন, ‘জন্ম তো নিলাম, এবার আমি ক্লান্ত! এখন আমার একটু জিরিয়ে নেওয়া দরকার।’
আরেকজন যোগ করেন, ‘ওরা কি ভিডিও শুট করছে? দাঁড়াও, আমি একটা সুন্দর পোজ দিই।’
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, নবজাতকের মুখের অভিব্যক্তি কিংবা গায়ের ভঙ্গিমা তাদের সচেতন চিন্তা বা ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে না। জন্মের পর শিশুরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় কিছু সময়ের জন্য একদম শান্ত ও স্থির থাকে, যা খুবই স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া।
তামান্না রুপা/
