ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলো দেবী দুর্গা। টানা কয়েক দিনের আনন্দ-উৎসব, পূজা-অর্চনা আর সম্প্রীতির আবহ শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
দেবীর বিদায়ক্ষণে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে ভর করে বিষাদের ছায়া। যে মন্ডপে কয়েক দিন ধরে ছিল ঢাকের তালে তালে আনন্দ, ভক্তদের পদচারণা আর উৎসবের রঙিন আয়োজন, সেই মন্ডপ থেকেই এবার বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে।
এদিকে বুধবার রাতে পৌর শহরের বড়বাজার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। ওই ঘাটে দেবীকে বিদায় জানাতে একে একে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে প্রতিমা আসতে থাকে বিসর্জনের জন্য।
শঙ্খ আর উলুধ্বনি,ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। এরপর ওই ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় পৌর শহরের বড় বাজার ঘাটে উপস্থিত ছিলেন, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কফিল উদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিন আব্দু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, আখাউড়া পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ পাল বাবু, রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী অলক কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানায়, দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতিরও এক অনন্য প্রকাশ। এ উপজেলায়ও পূজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে যে আনন্দের সূচনা হয়েছিল, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। তবে উৎসবের স্মৃতি, প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্ত আর দেবীর কাছে করা প্রার্থনা রয়ে গেল ভক্তদের হৃদয়ে। তাই দেবীর বিদায় মানেই শুধু বিষাদ নয়, বরং অন্যায়-অশুভের বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রত্যাশাও।
পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় পৌর শহরসহ উপজেলার ২৯টি পূজামন্ডপে পূজা-অর্চনা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দেবী ভক্তরা দুর্গোৎসব উদযাপন করে। সার্বজনীন এই উৎসবের প্রত্যেক দিনই সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল বয়সের নারী-পুরুষ মন্ডপে-মন্ডপে গিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। পাশাপাশি দেবীদুর্গার কৃপা লাভের আশায় তারা আরাধনা করেন।
প্রতিবারের ন্যায় এ বারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি পূজামন্ডপে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিপুলসংখ্যক আনসার, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।
আখাউড়া রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী অলক কুমার চক্রবর্তী, জানান, দেবীদুর্গা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের দুর্গোৎসব শেষ হল। উৎসব চলাকালে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই পুজায় আনন্দ উল্লাস করেছেন। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় সুন্দরভাবে আমাদের শারদীয় দুর্গোৎসব এর সমাপ্তি হয়েছে।
