ISL-এর প্রথম জয় মোহনবাগানের।ছবি: MBSG
Published on
:
2 min read
কলকাতার আকাশে তখন ষষ্ঠীর আলো, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে জনজোয়ার। আর কয়েকশো কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে এক অন্য লড়াইয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছিল মোহনবাগান (Mohun Bagan)। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে যখন হারের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে, তখনই বিরতির পর পাল্টা আঘাতে ম্যাচের ছবিটা ওলটপালট করে দিল সবুজ-মেরুন। চার মিনিটের ব্যবধানে দু’টি গোল, আর তাতেই এল আইএসএলে (ISL) মরশুমের প্রথম জয়! শুক্রবার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে (Sporting Club Delhi) ২-১ গোলে হারিয়ে স্বস্তি ফিরল পানাগিয়োটিস দিমপেরিসের (Panagiotis Dilmperis) শিবিরে। লি আরউইন (Lee Erwin) সমতা ফেরানোর পর জয়সূচক গোল মিগুয়েল ফেরেরার (Miguel Ferreira)। কিন্তু যে ফুটবলার গোল করে জয়ের রাস্তা খুলে দিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই চোট পেয়ে তাঁর মাঠ ছাড়ার ঘটনায় আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেল অস্বস্তির কাঁটা।
প্রথমার্ধে দিল্লির দাপট, পিছিয়ে মোহনবাগান
প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হারের পর দিল্লির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল মোহনবাগানের। বাগানের কোচ পানোস প্রথম একাদশে মিগুয়েলকে রেখেছিলেন। মাঝমাঠে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেজান দ্রাজ়িচ এবং লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। সামনে একা স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন লি আরউইন। তবে ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে বেশি ধার ছিল দিল্লির। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারবার সবুজ-মেরুন রক্ষণে চাপ তৈরি করছিল তারা। সাত মিনিটে রদ্রিগুইনহোর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। কাউন্টার অ্যাটাকে মোহনবাগানও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে। ১৯ মিনিটে ছাংতের সঙ্গে পাস খেলে বল পান আরউইন। তাঁর শট আটকে দেন দিল্লির গোলকিপার নোরা ফার্নান্ডেজ়।
এর পরেই অবশ্য এগিয়ে যায় দিল্লি। ২৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে লম্বা বল পেয়ে বাগানের বক্সে ঢুকে পড়েন লালরিনলিয়ানা হামতে। বুক দিয়ে বল নামিয়ে বাঁ পায়ের শটে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করেন তিনি। গোল খেয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। ৩৭ মিনিটে আরউইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে দিল্লি। আইমেনের শট শেষ মুহূর্তে আটকে দেন মেহতাব সিং। বিরতির আগে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাগানও। দ্রাজ়িচের পাস থেকে আরউইনের বাঁ পায়ের ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় পানোসের দলকে।
চার মিনিটে দুই গোল, বদলে গেল ম্যাচের ছবি
দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে মোহনবাগান। আক্রমণে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নিতে থাকে তারা। ৫৬ মিনিটে সেই চেষ্টার ফল মেলে। রাহুল ভেকের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে মোহনবাগানের হয়ে সমতা ফেরান আরউইন। সবুজ-মেরুন জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল। সমতা ফেরানোর পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি বাগানকে। ৬০ মিনিটে অভিষেক টেকচামের বাড়ানো বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল কাঁপান মিগুয়েল। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেয় কলকাতার দলটি।
তবে গোলের পর বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারেননি মিগুয়েল। আইমেনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে চোট পেয়ে পড়ে যান তিনি। প্রথমে উঠে দাঁড়ালেও পরে আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। ৭৮ মিনিটে তাঁকে তুলে নিতে হয়। ফলে ম্যাচ জিতলেও ব্রাজ়িলীয় ফুটবলারের চোট নিয়ে চিন্তা বাড়ল মোহনবাগান শিবিরে।
ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট, তবু স্বস্তির জয়
দ্বিতীয় গোলের পরও আক্রমণ থামায়নি মোহনবাগান। দিল্লির রক্ষণকে ব্যস্ত রেখে আরও গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। ৮৫ মিনিটের পর একটি ভালো আক্রমণে সাহাল সামাদের পাস থেকে শট নেন সামির জেলকোভিচ। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টা আটকে দেন দিল্লির গোলকিপার নোরা। ৯০ মিনিটে মনবীর সিংয়ের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয় বাগানের। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচের হারের পর এই জয় যে দলকে স্বস্তি দেবে, তা বলাই যায়। একই সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও দেখাল পানোসের দল। তবে পরের ম্যাচের আগে মিগুয়েলের চোট কতটা গুরুতর, সেটাই এখন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে বড় প্রশ্ন।