প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ভারতের নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যাননি। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানানো হয়, বিষয়টিকে ইতিবাচক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই মূল্যায়ন করেছে নয়াদিল্লি।
ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র সচিব প্রতিনিধিত্ব করেন। বুধবার পাক্ষিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করা হয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধির জয়সওয়ালের কাছে। তিনি জানান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর এই উদ্বোধনী বৈঠকে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক জোটের সবকটি সদস্য রাষ্ট্রের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে সচিব পর্যায়ে ঢাকার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে সম্মিলিত সদিচ্ছার ওপরই জোর দিয়েছে ভারত।
বৈঠক শেষে যৌথভাবে গৃহীত ‘দিল্লি ঘোষণা’ (Delhi Declaration)-এর কথা উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিমসটেকভুক্ত অঞ্চলজুড়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সীমান্তপারে মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং অর্থ পাচারবিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করতে সকল দেশ একমত হয়েছে। ঢাকার অংশগ্রহণ আঞ্চলিক এই নিরাপত্তা চুক্তিকে আরও বেগবান করবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়।
একই প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নয়াদিল্লির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সরকার সে দেশের সংখ্যালঘু সুরক্ষা, সাম্প্রতিক সহিংসতার সঠিক তদন্ত এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি যথাযথ গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে মোকাবিলা করবে বলেই প্রত্যাশা করে নয়াদিল্লি।
