মেয়েদের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।’
কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আসুন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি কন্যা নিরাপদে জন্ম নেবে, নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে। একদিন গর্বের সঙ্গে বলবে, এ দেশ আমার, এ দেশের ভবিষ্যৎও আমার। বাংলাদেশে শিশুকন্যার সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
গতকাল ‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দেয়া আমাদের গুরুদায়িত্ব।’
মেয়েদের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও বাংলাদেশী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ অর্জনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুজন কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।
