আজকাল ওয়েবডেস্ক: মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, বেশি সংখ্যক স্কিমে টাকা রাখলেই ঝুঁকি কমবে এবং পোর্টফোলিও আরও ভালভাবে বৈচিত্র্যময় হবে। সেই কারণে অনেকে চার-পাঁচটি বা তারও বেশি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সত্যিই কি প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর এতগুলি ফান্ড থাকা জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করছে বিনিয়োগের পরিমাণ, আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং বিভিন্ন ফান্ডের মধ্যে বৈচিত্র্যের উপর।
মাসে ৪০০০ টাকার SIP-এ একটি ফান্ডই কি যথেষ্ট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যদি প্রতি মাসে ৪০০০ টাকা SIP-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন, তা হলে একটি মিউচুয়াল ফান্ডেও বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। আবার ভবিষ্যতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে চারটি স্কিমে ১০০০ টাকা করে ভাগ করেও বিনিয়োগ করা সম্ভব।
অর্থাৎ, কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর। তবে আগামী দিনে SIP-এর পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা না থাকলে চারটি স্কিমে টাকা ভাগ করার পরিবর্তে এক বা দুটি ফান্ডে বিনিয়োগ করাই যথেষ্ট হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, অকারণে একাধিক ফান্ডে বিনিয়োগ করলে পোর্টফোলিও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ফান্ডের ফোলিওতে ব্যাঙ্কের তথ্য, নমিনির বিবরণ আপডেট করা কিংবা ভবিষ্যতে ক্লেম সংক্রান্ত কাজ সামলানোও কঠিন হতে পারে।
বিনিয়োগের আগে কোন তিনটি বিষয় খেয়াল রাখবেন?
প্রথমত, স্টক ওভারল্যাপ। অর্থাৎ, বিভিন্ন ফান্ড একই সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। ফ্লেক্সি-ক্যাপ, মাল্টি-ক্যাপ কিংবা মিড-ক্যাপ—বিভিন্ন ধরনের ফান্ড থাকলেও তাদের শেয়ারের তালিকায় মিল থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সেক্টর ওভারল্যাপ। একাধিক ফান্ড যদি একই ক্ষেত্রের সংস্থায় বেশি বিনিয়োগ করে, তা হলে প্রত্যাশিত বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। এক্সেল বা উপযুক্ত AI টুলের সাহায্যে বিভিন্ন ফান্ডের শেয়ারের তালিকা তুলনা করা সম্ভব।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগের ধরন। কোনও ফান্ড গ্রোথ-ভিত্তিক, আবার কোনও ফান্ড ভ্যালু-ভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করতে পারে। ফান্ডগুলির বিনিয়োগের ধরন, ঝুঁকি ও শেয়ারের বণ্টন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, মিউচুয়াল ফান্ডে সফল বিনিয়োগের জন্য বেশি সংখ্যক স্কিম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বরং প্রতিটি ফান্ডের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকা এবং নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পোর্টফোলিও সাজানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি, সময়সীমা ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
