Published on
:
2 min read
বিশ্বজুড়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ২০২৭ সালে ভারতের শেয়ার বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বিদেশি পুঁজি ধারাবাহিক বেরিয়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের টাকা আমেরিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর বাজারের দিকে চলে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
ব্যাঙ্ককে IMF ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের বৈঠকের ফাঁকে শুক্রবার CNBC-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্মলা বলেছেন, ‘AI এবং আমেরিকার দিকে পুঁজির এই চলে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। সাধারণত এই পুঁজি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিনিয়োগের জন্য যায়।’
ভারতীয় ডিপোজ়িটরি সংস্থা NSDL-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতের শেয়ার বাজার থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন। জানুয়ারি থেকে দেশের প্রধান দুই শেয়ার সূচক প্রায় ১২ শতাংশ নেমেছে। বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধি তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী রয়েছে। তার পরেও বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়া বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে।
AI-ভিত্তিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি বেশি পুঁজি টানতে পেরেছে। বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এই দুই বাজার লাভবান হয়েছে। অন্য দিকে, ভারত সেই মাত্রায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি।
৮ অক্টোবরের গোল্ডম্যান স্যাকসের রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের MSCI সূচকে তাইওয়ানের অংশ ২৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ২২ শতাংশ। ভারতের অংশ কয়েক বছর আগের ১৯ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমেছে।
তবে বিশ্বজুড়ে AI-নির্ভর শেয়ার বাজারে বড় পতন হলে তার প্রভাব ভারতকে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বলেই মনে করেন নির্মলা। তাঁর বক্তব্য, অন্য বাজারগুলির মতো ভারতে AI-তে বিপুল বিনিয়োগ আসেনি। তাই এই উত্থানের পতন থেকে ভারতের উপর সরাসরি ধাক্কা তুলনামূলক কম হতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি এবং বিশ্বজুড়ে পুঁজির দিক বদলানোর কারণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও, ভারতীয় অর্থনীতির মূল ভিত এখনও মজবুত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
