উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চে ঠাসা হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে পিএসজি। মঙ্গলবার রাতে প্যারিসের ঘরের মাঠে দুই দফা পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতায় ফিরেছিল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তবে শেষ দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে দুটি গোল আদায় করে নিয়ে স্বাগতিক পিএসজি জয় নিশ্চিত করে। এর ফলে ইউরোপসেরার মঞ্চে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা; অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে পিএসজি। খেলার প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা, তবে জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কাভারৎসখেলিয়ার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শুরুর এই আক্রমণের পর ২০তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি তারকা ওসমান দেম্বেলে, যাঁর বদলি হিসেবে নামেন ফেরান তোরেস। এর কিছুক্ষণ পরই চোটের কারণে বার্সেলোনাও তাদের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায়। তবে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। নিজেদের অর্ধে লামিনে ইয়ামাল বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেই সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে নিচু জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে পিএসজিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর ফিরে ম্যাচে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে বার্সেলোনা। ৫৫তম মিনিটে ফারমিন লোপেজের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন তরুণ ফুটবলার জাভি এসপার্ট, যা সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৭২তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে পিএসজিকে আবারও ২-১ গোলে এগিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। নিয়মিত লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেসের অনুপস্থিতিতে ইয়ামালকে পাহারায় রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করা হার্নান্দেজকে গোল করার কিছুক্ষণ পরই মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে।
তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। খেলার ৭৯তম মিনিটে পিএসজির বদলি মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরি উঁচু বল নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক ভুল করে বসেন। সেই সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান লামিনে ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের দশম গোল এবং একই সঙ্গে এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বার্সেলোনা।
ম্যাচে সমতা ফেরার পর শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য আগ্রাসী রূপ ধারণ করে পিএসজি। ৮১তম মিনিটে বুক দিয়ে বল চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার বাঁকানো শটে জাল কাঁপান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া। তাঁর এই দর্শনীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে বার্সেলোনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। ফলে ৪-২ ব্যবধানের স্মরণীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্যারিসের দলটি।
