আবুধাবিতে নতুন বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে ঝড় তুললেন তাসকিন আহমেদ। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১৫০ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে ২৭২ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেন তাসকিন। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন বেনেট। এরপর পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে একইভাবে বেন কারানকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। ৬ রান করে বিদায় নেন কারান।
প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার আগেই তাসকিনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তাফাদজাওয়া সিগা। ১৬ রান করা এই ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসবন্দী হলে ৭ ওভারের মধ্যেই ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে দলটির ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন টেলর ও আরভিন। অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটার শুরুতে উইকেট ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দিলেও ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন রানের গতি। বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় উইকেটবঞ্চিত রেখে চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের দৃঢ়তায় ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে পৌঁছে যায় লড়াই করার মতো অবস্থানে।
টেলর ৮১ রান করে দলের ইনিংসে বড় অবদান রাখেন। অন্যদিকে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে থামেন আরভিন। ৯৩ রানের ইনিংসটি খেলতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি। দুজনের ব্যাটিংয়েই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় সফরকারী দল।
৩৭তম ওভারে সাইফ হাসানের বলে টেলর-আরভিন জুটি ভাঙলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। ১৭৪ থেকে ২৩৪ রানের মধ্যে আরও চার ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। ৯৩ রান করা আরভিনকে ফিরিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। তাসকিনের দুর্দান্ত শুরুর পর শরীফুলের এই উইকেট বাংলাদেশের বোলারদের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
তবে শেষ দিকে জিম্বাবুয়েকে আড়াই শ রানের নিচে আটকে রাখার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ। নবম উইকেটে মাসাকাদজা ও নিয়ামুরি অবিচ্ছিন্ন থেকে মাত্র ২৬ বলে যোগ করেন ৩৭ রান। দুজনই ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রান পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। শরীফুল ইসলাম ৪৭ রানে ২ উইকেট এবং সাইফ হাসান ১৭ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। রিশাদ হোসেনের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।
২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর টেলর ও আরভিনের প্রতিরোধ, এরপর শেষ দিকে নবম উইকেট জুটির কার্যকর ব্যাটিং-এই তিন অধ্যায়েই গড়ে উঠেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
