গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা নাগাদ হঠাৎই হামলা হয় অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত অভিনেতা নিজেও। এই ঘটনার পর অবশেষে মুখ খুললেন টাইগার। তাঁর কথায়, ‘‘কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই আমার।’’
৩৬ বছর বয়সি অভিনেতা প্রাণে রক্ষা পেলেও আহত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জখম হয়েছেন অভিনেতার গাড়ির চালক এবং এক ভ্লগার। ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতার বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ থেকে ছ’রাউন্ড গুলি চালায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। তার পর বাইকে চেপে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
সূত্রের খবর, প্রাণঘাতী হামলার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অভিনেতা। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে নিজের বয়ানও নথিভুক্ত করাননি তিনি। অভিনেতার বয়ান রেকর্ড করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার একটি দল। এনডি টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ আধিকারিকদের অভিনেতা বলেছেন, “আমি গোটা ঘটনায় প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছি। এই মুহূর্তে কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। কে আমার উপর এমন প্রাণঘাতী হামলা করতে চাইবে, আর কেনই বা করবে?” তিনি আরও বলেন, “কারও সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই। তা হলে আমার উপর হামলা চালানো হল কেন?” এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিনেতার গাড়ির চালক ফিরদৌস বালোচ এবং ভ্লগার উমেশ চৌহানের বয়ান নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এই গুলি চালানোর ঘটনায় শনিবার আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইনদওর থেকে এক ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত এই ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা ১১।
ঘটনার চার দিন পরে, গত বৃহস্পতিবার অভিনেতার হাতে আঘাতের চিহ্নের ভিডিয়ো প্রকাশ করে তাঁর সহযোগী দল। ভিডিয়োয় দেখা যায়, টাইগারের হাতে ছোট ছোট লাল দাগ। গুলির সময়ে ছোড়া পেলেট থেকেই ওই আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিয়োটির সঙ্গে লেখা, “ঈশ্বর সত্যিই দয়ালু।”
১৮ অক্টোবর, রবিবার মুম্বইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বিএমডব্লিউয়ে চড়ে বেরোচ্ছিলেন অভিনেতা। তখনই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন টাইগার। অনুরাগীদের দিকে হাত নাড়াচ্ছিলেন। গাড়ি ক্লাবের গেট পেরোতেই হঠাৎ এক যুবক টাইগারের গাড়ির সামনে চলে আসেন। বন্দুক বার করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকেন গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে। এর পর আরও এক যুবক বন্দুক নিয়ে এগিয়ে এসে টাইগার গাড়ির যে দিকে বসেছিলেন, সে দিকের জানলা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন। তার পর দু’জনেই তৃতীয় এক জনের বাইকে চড়ে চম্পট দেন। ঘটনার আকস্মিকতা কাটলে টাইগার দেখেন তাঁর চালকের গুলি লেগেছে। এর পর আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি অভিনেতা। এক লাফে আসন বদল করেন। চালকের আসনে বসে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। আহত চালককে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিশ্নোই গ্যাং। এই ঘটনার পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও অনিল হরমন সন্ধু হামলার নেপথ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বিশ্নোই-ঘনিষ্ঠ বলেই খবর। হিন্দিতে লেখা সেই পোস্টের মূল বক্তব্য, “আমরা ওঁকে ফোন করেছিলাম, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উনি বোঝেননি। তাই আজ, আমরা সবটা ওঁকে ব্যাখ্যা করব বলে সিদ্ধান্ত নিই। মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে বা যাঁরা আমাদের কথা শুনবেন না এবং সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁরাই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। দেখতে থাকুন।”
