কালবেলা · স্বাস্থ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবায় কীভাবে অবদান রাখছে চীন
১৯/১০/২০২৬

আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তা দিতে তিন দফায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে চীন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে ইবোলাকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর এ উদ্যোগ নেয় দেশটি।
পাশাপাশি চীনের উদ্ভাবনী ওষুধ, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতি এবং আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত ৯ হাজার ৬৬ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৩৮১ জন।
চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউটের হেপাটাইটিস গবেষণাগারের পরিচালক সু কে জুন মাসে একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে দেশটির রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছান।
স্থানীয় গবেষণাগারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার দল দেখতে পায়, ইবোলা শনাক্তে ব্যবহৃত পরীক্ষার উপকরণে ভাইরাসটির বান্দিবুগিও ধরন শনাক্ত না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে পরীক্ষাপদ্ধতি পর্যালোচনা ও উন্নত করেন তারা।
চিকিৎসা সহযোগিতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছে দেশটি। জার্মানির কেম্পটেন শহরের একটি ফার্মেসির সঙ্গে চীনের আনহুই প্রদেশের জিরেন ফার্মাসিউটিক্যালের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধের ১৯৩টি ফর্মুলা গ্র্যানিউল গুণগত মান ও নিয়মনীতি-সংক্রান্ত সনদ পেয়েছে। এসব পণ্যের বিক্রি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যদেশে বিস্তৃত হয়েছে।
চীনা বিজ্ঞানী তু ইউইউ ও তার সহকর্মীদের উদ্ভাবিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ আর্টেমিসিনিনও বিশ্বস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওষুধটি বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। আর্টেমিসিনিনভিত্তিক সমন্বিত চিকিৎসা এখনো ম্যালেরিয়ার প্রধান চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে, চীনের ওষুধশিল্পেও উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ছে। দেশটির জাতীয় চিকিৎসাপণ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের উদ্ভাবনী ওষুধের বিদেশে লাইসেন্স দেওয়ার চুক্তির মোট মূল্য ১৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রূপান্তরবিষয়ক প্রধান অ্যান্ডি মুসের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ চীনের চিকিৎসা খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক সাইয়া মাউ পিউকালা বলেছেন, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করছে এবং চিকিৎসাসেবায় বৈষম্য কমানোর সুযোগ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও গবেষণার ফল আন্তর্জাতিকভাবে ভাগাভাগি করা গেলে বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা সম্ভব।
সূত্র: সিজিটিএন
মূল প্রতিবেদনে যান ↗