কালবেলা · আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন নিয়ে বিতর্ক, নিশানায় ভিন্নমতাবলম্বীরা
২৪/১০/২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচ মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বালোচের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও বেলুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। সন্ত্রাসবাদ ও হত্যার অভিযোগে গত ২২ জুন তার দণ্ড ঘোষণার পর বিক্ষোভ শুরু হয়। জেমসটাউন সাময়িকীর খবর।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনা বেলুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার সমর্থন ও প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে।
মাহরাং বালোচ বেলুচিস্তান ইয়াকজেহতি কমিটির (বিওয়াইসি) নেতা। সংগঠনটি বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা বন্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এসব ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
মাহরাংয়ের বাবা গাফফার বালোচ লাঙ্গোভে বেলুচ ন্যাশনাল পার্টির নেতা ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মাহরাং।
২০২০ সালে কোয়েটার একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি, বৃত্তি কমানো ও জেলা কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।
২০২৩-২৪ সালে তার নেতৃত্বে ‘বেলুচ লং মার্চ’ আন্দোলন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ আন্দোলন হয়। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই গোয়াদরে বিওয়াইসির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।
পরে কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মাহরাং, সিবগাতুল্লাহ বালোচসহ সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি সংস্থা বলেছে, গোয়াদরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাহরাংয়ের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার পক্ষে প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা পাকিস্তানে ভিন্নমতাবলম্বী ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের ৪৭ সদস্যের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক বিচার ও বিরোধী শক্তি দমনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে।
সূত্র: জেমসটাউন
মূল প্রতিবেদনে যান ↗