রাজবাড়ী জেলা শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদার নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় মো. শামীম আহসান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে ফরিদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মো. শামীম আহসান (৩৬) রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন মিলিটারির ছেলে। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিয়ারুল হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরখানাপুর শেখপাড়া এলাকায় তার বাবার মালিকানাধীন মুরগির খামারে অভিযান চালিয়ে বালুর নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শামীম আহসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(ফ) ধারায় মামলা করার জন্য রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাছে এজাহার দাখিল করেছেন এসআই সাব্বির হোসেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘শামীম আহসানের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিয়ারুল হত্যা মামলায় গত রোববার রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার আব্দুল কাদের মণ্ডল মিয়ার ছেলে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর পাশের কলাপসিবল গেটের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল সরদার ওরফে পিয়ারুল ইসলাম। এ সময় দুইটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সেখানে আসেন। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর একটি গুলি তার বুকের বাঁম পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে পিয়ারুল রাস্তায় পড়ে গেলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে রাত ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।
পরে গত রবিবার বিকেলে পিয়ারুলের স্ত্রী ফারজানা হক অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পিয়ারুল সরদারের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে মোট ১৫টি মামলা ছিল।
