সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করার অভিযোগে যশোরের আদালতে দুই ছেলেসহ ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিহত ছামাদ দফাদারের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এ ঘটনায় এর আগে থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—নিহতের বড় ছেলে হায়দার আলী, মেজো ছেলে আব্দুল কুদ্দুস, পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম, নাতি সাইদুর এবং তাদের দুই সহযোগী নুর ইসলাম ও আব্দুল হান্নান।
মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, যশোর সদর উপজেলার হাটবিলা মৌজার আরএস ১৮৬৭, ১৮৬৮ এবং ১৮৭০ দাগের ১৩ শতক জমির মালিক ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইদ্রিস আলী। ওই জমিতে বড় ভাই হায়দার আলীর একটি মাছের পুকুর থাকায়, তার পরিবর্তে আরএস ১১৪৪ দাগের ৩৯ শতক জমি ইদ্রিসকে লিখে দেওয়ার মৌখিক ও লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এই শর্তে ২০২০ সালে ইদ্রিস আলী তার ১৩ শতক জমি ভাইদের নামে হেবা দলিল করে দিলেও পরবর্তীতে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে কোনো জমি বুঝিয়ে দেননি। এরও আগে, ২০১৯ সালে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও নানা কৌশল অবলম্বন করে আসামিরা বৃদ্ধ বাবা ছামাদ দফাদারের প্রায় এক কোটি টাকার মূল্যের সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন। পরবর্তীতে বাবা ছামাদ দফাদার নিজেই সেই দলিল বাতিল এবং ছোট ছেলে ইদ্রিস আলীর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি উদ্যোগ নিলে আসামিরা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগে আরও প্রকাশ পায়, এই পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই আসামিরা বৃদ্ধ ছামাদ দফাদারকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেন এবং তা ধামাচাপা দিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করেন। ১১ অক্টোবর বাদী ইদ্রিস আলী তার ভাইদের বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধ বাবার আকস্মিক মৃত্যুর কারণ জানতে চান। এ সময় আসামিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাব লাঞ্ছিত করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
