জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও করের চাপের প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৯৭ জনকে শনাক্ত করে পুলিশি দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইতালির বিভিন্ন শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রোববারও অব্যাহত থাকে। মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া ও বেরগামোসহ একাধিক শহরে মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কিছু এলাকায় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে তা সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নেয়।
বিক্ষোভের আয়োজক হিসেবে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ নামের একটি আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং অতিরিক্ত করের বোঝা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মিলানে প্রায় পাঁচ হাজার, তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার, ব্রেসিয়ায় ছয়শ এবং বেরগামোতে আটশ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
মিলানে পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। একটি সামরিক পুলিশবাহিনীর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তুরিনেও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিন অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে পেট্রলবোমা উদ্ধারের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। বোলোনিয়ার রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখানে পাথর, বোতল ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ছোড়ার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। বিরোধী দলগুলোর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির দায় মেটাতে আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধানসংবলিত একটি প্রস্তাব সংসদে আবারও তোলা হবে। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণকে বোধগম্য বলে উল্লেখ করলেও পুলিশকে আক্রমণ ও নগরীর সম্পদ নষ্ট করার বিরোধিতা করেছেন। বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।
ইতালির এই পরিস্থিতি প্রতিবেশী ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবার মান নিয়ে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে মিল থাকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে পৃথকভাবে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।
