কিংসব্রুজ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে পরাজয়ের অতলে দক্ষিণ আফ্রিকা। সোমবার চা বিরতির পর অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২৮ রান। দিনের খেলা শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের চারজনকে হারিয়ে বসেছে এবং জয়ের জন্য তাদের এখনও প্রয়োজন ৩১৯ রান। দিনের শুরুতে ডার্বান শহরে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সকাল আটটার একটু পর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো অঞ্চল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যাকআপ ব্যাটারির কল্যাণে ডিআরএস এবং ম্যাচ পরিচালনার অন্যান্য প্রযুক্তি সচল হয় এবং খেলোয়াড়েরা মাঠে নামেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের আত্মসমর্পণ ছিল স্পষ্ট। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করা ম্যাট রেনশ দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত ব্যাট করে ৯৯ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন। অজিদের আক্রমণাত্মক বোলিং এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে স্বাগতিক বোলাররা নিষ্প্রভ ছিলেন। ফলে অস্ট্রেলিয়া তাদের লিড ৪২০ রানে নিয়ে পৌঁছায়। এর আগে রবিবারেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন, যা ম্যাচ থেকে তাদের ছিটকে দেয়।
অস্ট্রেলিয় দলের খেলোয়াড় বো ওয়েবস্টার সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, শর্ট বল এবং স্টাম্প তাক করা বলের পাশাপাশি কন্ডিশন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে তারা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে নাথান লায়নের স্পিন আক্রমণ এবং পেসারদের শর্ট বল পরিকল্পনা দারুণ ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে এই বিপর্যয়ের মাঝেও ব্যতিক্রম ছিলেন এইডেন মার্করাম। তিন ঘণ্টা প্রায় ঘাম ঝরিয়ে ১১৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। যদিও কাঁধের সামান্য পেশির টানের কারণে তাকে মাঠে চিকিৎসাও নিতে হয়।
ম্যাচের এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে রয়েছে ২০১২ সালের অ্যাডিলেড টেস্টের স্মৃতি। সেবারও চতুর্থ দিন শেষে চার উইকেট হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা এবং লক্ষ্য ছিল বর্তমানের চেয়ে মাত্র নয় রান বেশি। সেই ঐতিহাসিক টেস্টে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফাফ ডু প্লেসির অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ দলটিকে রক্ষা করেছিল। ডু প্লেসি অভিষেকেই প্রায় আট ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ৩৩৬ বলে অপরাজিত ১১০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন। বর্তমান দলটিরও মঙ্গলবার ঠিক এমন একটি রূপকথার ইনিংসের প্রয়োজন।
ম্যাচ শেষে কেশব মহারাজ সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে দলের ব্যাটারদের আরও বেশি দৃঢ়তা দেখাতে হবে। এইডেন মার্করামের প্রশংসা করে তিনি জানান, পুরো ইনিংসে মার্করাম যে মানসিক নিবেদন দেখিয়েছেন, দল এখন ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করছে। মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে প্রোটিয়াদের এই কঠিন পাহাড় ডিঙাতে হলে ইতিহাসের সেরা প্রতিরোধই গড়ে তুলতে হবে।
