শৈশব থেকেই আমাদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। একাডেমিক পরীক্ষা আবার রেজাল্টের প্রেশার। হোম ওয়ার্ক শেষ করা, স্কুলে সময় মত পৌঁছানো, বাসায় এসে পড়তে বসা।
বর্তমান সময়ের এই দ্রুতগতির জীবনে বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। স্কুলের পড়া, কোচিং এবং গ্যাজেটের আসক্তি—সব মিলিয়ে তাদের মন শান্ত রাখাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের সন্তানদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য তাদের শান্ত থাকতে শেখানো অত্যন্ত জরুরি।
একটা শিশু যখন খুব অস্থির, রাগান্বিত বা overwhelmed থাকে, তখন সে সবসময় নিজে নিজে শান্ত হতে পারে না।
নিজে শান্ত হতে শেখার আগে, অনেক সময় সে আপনার শান্তভাবটাই দেখে, অনুভব করে এবং সেখান থেকেই শান্ত হতে শেখে।
- সব কিছু নিয়ে মোকাবিলা করা শুরু হয়ে যায় এই শৈশবেই। এসব চ্যালেঞ্জ শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। যা রাগ বা কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অনেক শিশু এ সময় উত্তেজিত হয়ে যায়। তখন তাকে শান্ত করা মা-বাবার দায়িত্ব।

আপনার সন্তান যখন কাঁদে, রাগ করে, জেদ করে বা নিজেকে সামলাতে পারে না—
তখন তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় এমন একজন বড় মানুষকে, যিনি তার অস্থিরতার মাঝেও নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন এবং তাকে নিরাপদ অনুভব করাতে পারেন।
কারণ, আপনার শান্ত কণ্ঠ, ধৈর্য, কাছে থাকা, চোখে চোখ রাখা এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করা —
আপনার সন্তানকে ভিতর থেকে নিরাপদ ফীল করায়। আর, ধীরে ধীরে এই নিরাপত্তার অভিজ্ঞতাই শিশুটিকে নিজের অনুভূতিগুলোকে সামলাতে শেখায়। ঠিক যেভাবে আপনি ওর পাশে থেকে, ওকে রোল মডেল করে দেখিয়েছেন।
এটাই Co-regulation—
একজন overwhelmed শিশুর অস্থিরতা আর তার শান্ত হয়ে ওঠার মাঝখানে থাকা
একটি অদৃশ্য সেতু।
তাই শিশুর রাগের মুহূর্তে শুধু ভাববেন না—
“ওকে কীভাবে শান্ত করব?”
আগে নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন—
“আমি কি নিজে শান্ত আছি?”
কারণ আপনি নিজে যখন উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তখন আপনার সন্তানের অস্থিরতাও আরও বেড়ে যায়। আর আপনি যখন শান্ত থাকেন, তখন সেই শান্তিটাই ধীরে ধীরে শিশুর ভেতরেও পৌঁছায় এবং ওর নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে।

মনে রাখবেন, শিশুরা সবসময় বড়দের মতো নিজের ভেতর থেকে শান্ত হতে পারে না।
কখনো কখনো, প্রথমে তাকে আপনার শান্ত স্বভাবের একটু আশ্রয় নিতে হয়।
কারণ, অনেক সময়ই শিশুদের শান্ত হওয়ার পথটা শুরু হয়—বাবা-মায়ের শান্ত থাকা থেকেই।
শিশুকে নেতৃত্ব দিতে দিন
ইউনাইটেড উই কেয়ারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ভাসুধা আগরওয়াল, টাইমস অব ইন্ডিয়ায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আপনার সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশি পরামর্শ দিবেন না। এর পরিবর্তে, সন্তানের বয়স-উপযুক্ত চ্যালেঞ্জগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতার উপর আস্থা রাখুন।
তাদের অনুভ‚তিগুলো জানার চেষ্টা করুন’। পরীক্ষার সময় শিশুকে নার্ভাস মনে হলে তাকে সেই বিষয়ের ওপর পদক্ষেপ নিতে দিন। তাকে শিথিল থাকার সুযোগ করে দিন। পরামর্শ না দিয়ে তাকে তার মতো করে পড়তে দিন।
গেম প্ল্যান করে সহযোগিতা করুন
উদ্বেগ সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি পরিচালনা করতে একটি গেম প্ল্যান করুন। পিছিয়ে পড়লে তাদের উৎসাহ দিন। খেলার ছলে তাকে পরিস্থিতি পরিচালনা করতে শেখান। শিশুদের কাছে সব কিছু গুরুতর ভাবে প্রদর্শন করবেন না। এতে তারা উত্তেজিত হয়ে যাবে।
স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আলোচনা করুন
শিশুরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে তাদের গাইড করুন। ইতিবাচক এবং ক্ষমতায়িত সংলাপ করুন। তাদের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি পরিচালনা করার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করুন।
শিথিলতা
ডা. আগরওয়ালের মতে, শিশুদের শারীরিক সংবেদনগুলো বুঝতে হবে। তাদের শরীরকে শিথিল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের মনকে শান্ত করার জন্য অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের গাইড করতে হবে।

শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে নির্ভরতা দিন
সন্তান উত্তেজিত হলে তাকে আলিঙ্গন করুন। আপনার স্পর্শ তার ওপর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের আরামের অনুভ‚তি প্রদান করবে। উদ্বেগের লক্ষণগুলো দূর না হওয়া পর্যন্ত তাকে জড়িয়ে ধরে রাখুন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ফারজানা পিয়াস এর পেইজ থেকে।
