ভিনসেন্ট কোম্পানির অসুস্থতা ও পরে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারটি আকস্মিক মনে হতে পারে। কিন্তু এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। কথাটা অদ্ভুত শোনালেও সত্যি। বায়ার্ন মিউনিখ কোচের আকস্মিক এই অসুস্থতার পেছনে রয়েছে এক অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা। নিজের কর্মব্যস্ততাকে শেষ সীমায় ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি, যে কারণে তার সহকর্মীরা পর্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে পড়েছিল।
গত শুক্রবার বায়ার্নের রিজার্ভ দলের ট্রেনিং সেশন চলাকালে অজ্ঞান হয়ে পড়েন কোম্পানি। ৪০ বছর বয়সী বেলজিয়ান ট্যাকটিশিয়ানের সঙ্গে ছিলেন দ্বিতীয় দলের কোচ দান্তে। প্রধান কোচ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মিউনিখের হাসপাতালে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
জার্মান আউটলেট বিল্ড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অসুস্থতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কয়েক সপ্তাহের সতর্ক সংকেতের চূড়ান্ত পরিণতি। তার কাজের মধ্যে ডুবে থাকা ও ব্যক্তিগত সময়ের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল বায়ার্নের কর্তৃপক্ষ ও ব্যাকরুম স্টাফরা। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে কয়েকদিন ভাইরাল ইনফেকশনে ভুগছিলেন তিনি। তবুও কাজ কমাননি এই কোচ। অসুস্থতা নিয়েও পেশাদারিত্ব থেকে সরে আসেননি। কঠিন চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার ধকল আর শরীর সামলাতে পারেনি।
মিউনিখে তার জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্তারিত জানা গেছে। সহকর্মীরা লক্ষ করেছেন, ঠিকভাবে ঘুমাতেন না কোম্পানি। প্রায় সময় অনেক ভোরবেলা উঠে নিজের ল্যাপটপে ম্যাচ ফুটেজ ও ট্যাকটিক্যাল ডাটা বিশ্লেষণ করতেন। সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে অত্যধিক পরিমাণে কফি পান করতেন তিনি।
শীর্ষস্তরের ডিফেন্ডার হওয়ার কারণে যে শারীরিক পরিশ্রম একসময় করতেন, কোচ হওয়ার পর তা একেবারেই কমে গিয়েছিল। বিশ্বমানের ট্রেনিং সুবিধা থাকা সত্ত্বেও নিজের ব্যয়ামের জন্য সময় বের করতে পারেননি খুব একটা।
সবকিছুতেই নিখুঁত থাকতে হবে, কোম্পানির এমন মনোভাব অনেকেই জানেন। কিন্তু বায়ার্নে প্রধান কোচ হওয়ার পর সেটা প্রত্যাশার চেয়েও বেড়ে গেছে। ম্যাচের আগে আলোচনা থেকে শুরু করে ওয়ার্ম আপ ড্রিল এবং দলের ভ্রমণের জন্য লজিস্টিক দিকগুলো ও সংবাদমাধ্যম সামলানোর মতো কাজগুলো নিজেই করতেন।
এত এত কাজ একাই সামলানো, নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল না রাখা এসব কারণেই দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় পড়ে গেলেন কোম্পানি। জানা গেছে, দীর্ঘ সময়ের জন্য টাচলাইন থেকে দূরে থাকতে হবে তাকে, সেটা হতে পারে কয়েক সপ্তাহ। তার অনুপস্থিতিতে বায়ার্নের কঠিন কাজগুলো কে করবেন, তা নিয়ে বায়ার্নের এখন উদ্বেগের সীমা নেই।
এফএইচএম
