সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর দেশটির পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার দাবি করেছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে পবিত্র এই শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুতিরা। এই পাল্টাপাল্টি দাবি ও হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে আরও বেড়ে গেছে।
যেসব এলাকায় পড়েছে ধ্বংসাবশেষ সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ মক্কা আল-মুকাররামা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ মক্কার বাইরের ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা এলাকা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিঘের একটি জনবসতিহীন স্থানে গিয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
হুতিদের অস্বীকৃতি ও অন্যান্য স্থানে হামলার দাবি মক্কা ও মদিনায় হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “পবিত্র এলাকা মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে আমাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি শত্রুরা যা প্রচার করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভয়াবহ মিথ্যাচার।”
তবে পবিত্র শহরে হামলার কথা অস্বীকার করলেও সৌদির অন্যান্য স্থানে হামলার কথা স্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি। শুক্রবার ও শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম, নাজরান, খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি এবং বেশ কিছু তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনে হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
এডেনে হামলা ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা ও উত্তেজনার ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে, অন্যদিকে রাজধানী সানা এখনো হুতিদের দখলেই রয়েছে।
