“সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই,” বলেন তিনি।
Published : 19 Oct 2026, 09:51 PM
Updated : 19 Oct 2026, 09:51 PM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গুজবে কান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে সোমবার বিকালে সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই।
“রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসব ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এরপর থেকে মাসব্যাপী ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব হবে। এ উৎসব ঘিরে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
দুর্গাপূজা নিয়ে তিনি বলেন, “চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার পাশাপাশি পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।”
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।
