জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না। জনগণ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন। দলের সুনাম ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনে কঠোর হবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবসৃষ্ট স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান তিনি।
এ সময় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের ভোট দিলে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশের সব উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে, কৃষকদের দেওয়া হবে কৃষক কার্ড। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্যও বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে বিএনপি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেহেশতের লোভ দেখিয়ে মানুষকে ঠকানো হয়েছে। গত পূজায় যেভাবে ঢাকের তালে নাচলেন, এবার কেন গেলেন না? ভোটের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। তাঁরা মৌসুমি রাজনীতিবিদ। ভোট এলে বেহেশতের লোভ দেখান, পূজামণ্ডপে যান; কিন্তু ভোটের পর জনগণের খোঁজ নেওয়ার সময় তাঁদের থাকে না। লংমার্চের নামে তেল-গ্যাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের ভোটের প্রয়োজন ছিল না, তাই তারা জনগণের কাছে যায়নি। কিন্তু আমাদের ভোটের প্রয়োজন আছে। তাই আমরা বারবার জনগণের কাছে আসব, তাঁদের কথা শুনব এবং তাঁদের পাশে থাকব।
এ সময় মোকামতলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুধী সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন ও ময়লা পরিবহণ ভ্যানের উদ্বোধন করেন।
