শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের এই উৎসব ঘিরে সাধারণ মানুষের মতো আনন্দে মেতেছেন শোবিজ তারকারাও। কেউ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরেছেন পূজামণ্ডপে, কেউ ব্যস্ত ছিলেন গান ও শুটিংয়ে। আবার কারও উৎসব কেটেছে প্রিয়জনকে স্মরণ করে, পুরোনো স্মৃতির আবেগে।
ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। দুর্গাপূজাতেও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। শারদীয় সাজে তোলা নিজের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। উৎসবের আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গেই কেটেছে তাঁর পূজার দিনগুলো।
একসময় দুর্গাপূজায় মায়ের সঙ্গে পূজামণ্ডপে যেতেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। মা মারা যাওয়ার পর থেকে একাই মণ্ডপে যান তিনি। এবারও পূজার প্রথম দিন থেকেই নিয়ম করে বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও তাঁকে একা দেখা গেছে। মা দুর্গার কাছে পূজা চেরীর প্রার্থনা, সবার দুঃখের অবসান হোক, অন্ধকার দূর হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ুক আলো। প্রতিটি হৃদয়ে জেগে উঠুক নতুন আশার আলো।
সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজার এবারের দুর্গোৎসব কেটেছে ব্যস্ততায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজামণ্ডপেও গেছেন তিনি। বিয়ের পর এটিই তাঁর প্রথম দুর্গাপূজা। ইচ্ছা ছিল উৎসবের অন্তত এক দিন শ্বশুরবাড়ির এলাকা মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার। তবে শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে পুরো পূজার সময় তাঁকে ঢাকাতেই কাটাতে হয়েছে।
চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর কাছে দুর্গাপূজা মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। উৎসবের প্রথম দিকে ঢাকায় থাকলেও শেষ দুই দিন নিজের শহর নারায়ণগঞ্জে কাটিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, দুর্গাপূজার নবমী ও দশমীর সেরা আয়োজন হয় নারায়ণগঞ্জে।
তবে এবারের পূজায় মাকে খুব মনে পড়ছে বাপ্পীর। দুই বছর আগে তাঁর মা মারা যান। গত বছর পূজার সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় মায়ের অভাব তেমন অনুভব করেননি। কিন্তু এবার নিজ শহরে, নিজের বাড়িতে প্রতিটি মুহূর্তেই মায়ের কথা মনে পড়েছে তাঁর। উৎসবের আনন্দের মধ্যেও তাই বাপ্পীর মনে জায়গা করে নিয়েছে মাকে হারানোর শূন্যতা।
সারা বছর নাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দুর্গোৎসবের সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়েছেন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তাঁর মতে, শৈশব হোক কিংবা বড়বেলা—উৎসবের আনন্দ কখনো ফিকে হয়ে যায় না। দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে বিসর্জনই তাঁর সবচেয়ে বেশি পছন্দ। পূজা সেনগুপ্ত মনে করেন, কোনো কিছুর সমাপ্তি মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং সেখান থেকেই নতুন কিছু শুরু হওয়ার কিংবা নতুনভাবে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
গত বছর দুর্গাপূজার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ছিলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। এবার তাঁর ইচ্ছা ছিল গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উৎসব কাটানোর। তবে একটি বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানমালার শুটিং থাকায় ঢাকাতেই থাকতে হয়েছে তাঁকে।
দিনের বেলা শুটিং করেছেন, আর সন্ধ্যায় সময় বের করে গেছেন পূজামণ্ডপে। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও উৎসবের আনন্দ থেকে দূরে থাকতে চাননি এই অভিনেতা। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পূজামণ্ডপে গেছেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার। সন্ধ্যা ও রাতে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত আরতি তাঁর বিশেষ পছন্দের। বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলাও উপভোগ করেন তিনি।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়, তা মুগ্ধ করে সুষমাকে। সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসব তারকাদের জীবনে বয়ে এনেছে নানা রকম অভিজ্ঞতা। কারও উৎসব কেটেছে ঘোরাঘুরি ও আনন্দে, কারও কেটেছে কাজের ব্যস্ততায়। আবার কারও মনে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ছিল প্রিয়জন হারানোর বেদনা।
আনন্দ, স্মৃতি, ভালোবাসা আর আবেগের মিশেলে বিদায় নিচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতীক্ষা এখন আগামী শরতের, যখন আবারও ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের রঙে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ।
The post তারকাদের দুর্গোৎসব: কারও ঘোরাঘুরি, কারও মনে মায়ের শূন্যতা appeared first on ভোরের চেতনা.
