সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের যশোরের মুরলী মোড়ের সমাবেশে এক থেকে দেড় লাখ মানুষের উপস্থিতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতি-দলীয়করণ ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরের মুরলী মোড়ে মূল সমাবেশে এক থেকে দেড় লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার যশোরে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শহরের জেস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় ক্যাফে ডেলাইটে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, চিফ রিপোর্টার ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়নি। সংসদে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করা এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ পাস না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা জরুরি। আগামী দিনের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ একই ব্যক্তির হাতে না রাখা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো সংস্কার আলোচনায় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যাকাণ্ড, দীর্ঘ সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদক নিয়ন্ত্রণও তাদের দাবির অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন, সার ডিলার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচিত ও নিয়মিত কমিটি ভেঙে দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কৃষি উপকরণ বিতরণ ও সার ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়ম রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়া এবং বেশি দামে সার কেনার অভিযোগ পেয়েছেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বোঝা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।
লংমার্চের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৮টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে কর্মসূচি শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর খুলনা ও যশোর হয়ে লংমার্চ এগিয়ে আসবে। যশোরের মুরলী মোড়ে বেলা আড়াইটায় মূল সমাবেশ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অভয়নগর, বসুন্দিয়া, নরেন্দ্রপুর, চুড়ামনকাটি,সাতমাইলসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা।
তিনি বলেন, এসব দাবি শুধু জামায়াতে ইসলামীর নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মসূচি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সাংবাদিকদের পরামর্শও চান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, যশোর শহর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
