ছবির ক্যাপশন: .
মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম রানা
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির জমিতে বিদ্যুতের খুটি নির্মানের জন্য জমি অধিগ্রহণ করার পর সকল নিয়ম মেনে আজ থেকে প্রায় পনের বিশ দিন আগে সেই অধিগ্রহণের টাকা তুলেন জমির মালিক। টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই সেই ব্যক্তির কাছে এল এ শাখার হাসান ফরাজির ফোন, সেই ব্যক্তিকে বলা হয় ৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বেশি দেয়া হয়েছে । সহজ সরল ব্যক্তি কোন কিছু না বুজেই সেই বাড়তি টাকা ফেরত দেয় হাসান ফরাজির কাছে । পরে ভুক্তভোগী লোক বুজতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার। এনিয়ে বহু দেন দরবার হয়েছে কিন্তু ভুক্তভোগী আর টাকা ফেরত পাননি। এটা সাম্প্রতিক কালের একটা ঘটনা , দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নিয়ে শত কোটি টাকার মালিক এই হাসান ফরাজি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন এই হাসান ফরাজি। কিন্তু অদৃশ্য কারনে পরের দিনই গন্যমাধ্যমের সেই শিরোনাম হাওয়া হয়ে যায়। টানা চৌদ্দ বছর ধরে একই শাখায় কর্মরত তিনি । বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে এল এ শাখা থেকে তাকে সাধারণ শাখায় বদলী করার একাধিক বার উদ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু অদৃশ্য কারনে তাকে বদলী করা হয়নি ।
পুরো নাম মেহেদী হাসান ফরাজি, কর্মরত ভুমি অধিগ্রহণ শাখা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুন্সিগঞ্জ। পদবি ট্রেসার ( ম্যাপ ও স্কেচ প্রস্তুতকারী) । বেতন সর্বসাকুল্যে হাজার ত্রিশ হবে, কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি মালিক হয়েছেন নুন্যতম শত কোটি টাকার। নিজ গ্রাম গজারিয়া উপজেলার ইসমানির চরের মসজিদের পাশে নির্মাণ করেছেনবিলাস বহুল বাড়ী৷ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাড়ীটিতে ইন্টেরিয়র বাবদ খরচ করেছে নুন্যতম কোটি টাকার উপরে । যদিও বাড়ীটি দোতলা তারপরও সব মিলিয়ে এই বাড়িটি নির্মাণ বাবদ খরচ হয়েছে নুন্যতম তিন কোটি টাকার উপরে । মুন্সিগঞ্জ শহরে আফতাব উদ্দিন টাওয়ারে রয়েছে দুটো ফ্ল্যাট, নারায়নগঞ্জ বন্দরে রয়েছে তিন তলা বাড়ি। এছাড়া বলাকী, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে কিনে রেখেছে নুন্যতম ৫৯ বিঘা সম্পত্তি।
এদিকে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে জেলা প্রশাসকের এল এ শাখায় মি : ১৫% পার্সেন্ট হিসাবে পরিচিত মেহেদী হাসান ফরাজি। অবশ্য এই পার্সেন্টের ভাগীদার তিনি একা নন , তার সাথে রয়েছে ভুমি অধিগ্রহণ শাখায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার নেতৃত্বে আছে, মি ' ফরাজী। ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করতে হলে মোট টাকার এই সিন্ডিকেটকে ১৫% পার্সেন্ট দিতে হয়। মুলত ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই হাসান ফরাজি । অর্থাৎ তিনি ম্যানেজ, জমি অধিগ্রহণের টাকাও ম্যানেজ। অবশ্য তাকে ম্যানেজ করা ছাড়া গ্রাহকদের ভুমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন, এটা একটা অসম্ভব কল্পকাহিনি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি এতটাই ক্ষমতাধর কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই এখানে একটানা চাকরি করছে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে । বিশেষ করে তার এই চাকরি জীবনের সময়কালীনে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতশত বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে । এদের অধিকাংশ গ্রাহকের জমি অধিগ্রহণের টাকা তার হাত ধরেই উত্তোলিত হয়েছে , বিনিময়ে ফরাজি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে ১৫% পার্সেন্টের নামে শত শত কোটি টাকা। ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ফরাজি সিন্ডিকেটের সকল সদস্যরা মালিক বনে গেছেন শত কোটি টাকার । এই বিষয়ে মেহেদী হাসান ফরাজির সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, দেয়া হয় ক্ষুদে বার্তা, এতেও সাড়া দেননি।
-চলবে
