বাংলাদেশ সবার এবং এর স্থিতিশীলতার স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন রাখা হয় না উল্লেখ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যেমন মসজিদ ও কবরস্থানের উন্নয়নে কাজ করে, ঠিক তেমনি সমভাবে মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। মসজিদ বা মন্দিরের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে জনকল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় জনবহুল এলাকা কিংবা সর্বোচ্চ মানুষের উপকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা কত, তা কখনোই দেখা হয় না। স্কুল, কলেজ, রাস্তা কিংবা ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের মূল মাপকাঠি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সব নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের সব মানুষকে একসঙ্গে মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী দেশ ও জাতির শান্তি, সম্প্রীতি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
