পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশ্রাফ বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে।”
Published : 23 Oct 2026, 06:53 PM
Updated : 23 Oct 2026, 06:53 PM
পাবনা সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করেছে।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, “শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের দড়ি ভাউডাঙ্গা কদমতলা গ্রামের ‘নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসা’য় স্থানীয় লোকজন অগ্নিসংযোগের পর ভাঙচুর করেছেন।”
এ ঘটনায় শিক্ষক মো. আবু ইউসুফকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান পরিদর্শক।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই মাদ্রাসায় মোট ৬০ শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে ৩০ জন আবাসিক, বাকিরা অনাবাসিক। বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে শিক্ষক আবু ইউসুফ ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। তখন ওই ছাত্রী কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং পরিবারের লোকজনের ঘটনাটি জানায়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এরপর শুক্রবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর একটি অংশ মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর পরই আবাসিক শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, “শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
জেলা পুলিশ সুপার আলী আশ্রাফ বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে। সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদরাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
