দিনচারেক আগেই প্রদেশজুড়ে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। এবার সেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে ক্লাস চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুলবাড়ি। ইতিমধ্যেই ওই স্কুলে ২৮জন পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসাবশেষের তলায় অন্তত ৪০ জন চাপা পড়ে রয়েছেন বলে অনুমান।
পাকিস্তানের নির্মাণ পরিকাঠামো নিয়ে বহুবারই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে, পরিকল্পনা ছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে। পেশোয়ারের এই স্কুলের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছিল কিনা আপাতত জানা নেই। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকাই স্কুলবাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়েই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয়রাই প্রথমে ভেঙে পড়া চাঙড় সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধার করতে শুরু করেন। অন্তত ৪৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে ২৮ জন পড়ুয়া। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৬ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একজন শিক্ষিকারও মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, এখনও ৪০ জন চাপা পড়ে রয়েছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে। তাদের অধিকাংশই স্কুল পড়ুয়া। আহতদের যেন দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় তার জন্য হাসপাতালে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সন্তানদের খোঁজে স্কুলের সামনে ভিড় করেছেন বাবা-মায়েরা। মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আহতদের চিকিৎসায় সবরকম ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, স্কুলবাড়ির গঠন বেশ দুর্বল ছিল। সেকারণেই সম্ভবত ভেঙে পড়েছে বাড়িটি। ইতিমধ্যেই ওই বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, আটকে পড়া শিশুদের অনেককেই হয়তো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যাবে না। আগামী দিনে এমন বিপর্যয় যেন আটকানো যায়, সেটা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটি স্কুলের স্বাস্থ্যপরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার নতুন প্রশাসন। গোটা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ওই প্রদেশের নতুন গভর্নর।
