পাকিস্তানে বসে অনলাইনে ডাকমাশুলের জাল লেবেল বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ইউএসপিএসকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগে ফাহিম আকরাম নামের ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আতিফ আমির গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর আকরামকে আটক করা হয়। এ সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক অভিযান চালানো হয়।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের খানেওয়াল এলাকার বাসিন্দা আকরামের বিরুদ্ধে গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করে বলে জানিয়েছে মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়।
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, আকরাম ‘লেবেলস ব্যাংক’ নামে একটি অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন। ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০০-এর বেশি গ্রাহকের কাছে ৫১ লাখের বেশি জাল ডাকমাশুলের লেবেল বিক্রি করা হয়। প্রতিটি লেবেলের দাম ছিল সাধারণত দুই ডলার। পার্সেলের ওজন, আকার কিংবা গন্তব্য—কোনোটির ভিত্তিতেই এই দামের পরিবর্তন হতো না।
এসব জাল লেবেল ব্যবহার করে গ্রাহকেরা সরকারি নির্ধারিত ডাকমাশুলের তুলনায় অনেক কম খরচে পার্সেল পাঠাতে পারতেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ডাকমাশুল থেকে বিপুল রাজস্ব হারায় এবং পার্সেল পরিবহনের ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা ওয়েবসাইটটির সরাসরি বিক্রয়লব্ধ অর্থ নয়; বরং জাল ডাকমাশুল ব্যবস্থার কারণে ডাক বিভাগের আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ।
পাকিস্তানি সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা আতিফ আমির জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ কাজে আকরাম নিজের নামে এবং তাঁর স্ত্রী, ভাই, বোন ও খালার নামে নিবন্ধিত ১৬টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে আকরামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পাকিস্তানেই তাঁর বিচার হবে, নাকি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
