নেত্রকোণার রাজুর বাজার থেকে শিদলী বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ইট, বালু ও পাথরের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক ও লরি চলাচলের কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ নিরসনে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যান চলাচল বন্ধ এবং সড়ক সংস্কারের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধলাকান্দা এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর ইট-বালু ফেলে ব্যবসা করছেন টিটু ও জুমনসহ কয়েকজন। এসব পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচল করায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এতে তিন উপজেলার মানুষ, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স, ডিলিং লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জনদুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক সাদিয়া খাঁন ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে টিটু নামের এক ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে। তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় চার দফা দাবি সামনে এসেছে। দাবিগুলো হলো—সড়কের পাশে অবৈধভাবে পরিচালিত ব্যবসা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাজুর বাজার-শিদলী সড়ক টেকসইভাবে সংস্কার করা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সড়ক দখল, যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্য প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বাংলা/এমএস
