দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় দেখা যাচ্ছে মিশ্র চিত্র। জ্বালানি তেল বিপণনকারী বেশিরভাগ কোম্পানি ভালো ব্যবসা করছে। মুনাফাও করছে মোটা অঙ্কের। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে লোকসানের চাপে।
লোকসানে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সংকট। এমনকি সম্পদের পরিমাণও কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
এ খাতের তালিকাভুক্ত ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ২২টির আর্থিক হিসাব গণনা হয় জুলাই-জুন। এর মধ্যে একটি কোম্পানি ২০২৬ সালের জুন শেষে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের হিসাব প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয় মাসের ব্যবসায় পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছাড়িয়েছে ৪০ টাকা। যমুনা অয়েল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিও ভালো মুনাফা করেছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার এবং গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস আছে লোকসানের মধ্যে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ও বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই দুটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিনটি লোকসানে। এর বাইরে আরও ছয়টি কোম্পানির মুনাফা কমেছে। বিপরীতে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের। প্রবৃদ্ধি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটির ক্যাশ ফ্লো রয়েছে ঋণাত্মক অবস্থায়।
কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেয়ারপ্রতি আয়ের হিসাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পদ্মা অয়েল। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৪৪ টাকা ২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ৪০ টাকা ২০ পয়সা। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় ৩ টাকা ৮২ পয়সা বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৩৮ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৪১ টাকা ৫১ পয়সা হয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যমুনা অয়েলও বড় মুনাফা করেছে। তবে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। আগের হিসাব বছরের জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩৬ টাকা ৬৫ পয়সা। সেখান থেকে কমে ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে ২৬ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ১০ টাকা ৮ পয়সা।
এছাড়া ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের শেয়ারপ্রতি আয় ১৭ টাকা ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২৮ টাকা ৬৪ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে, এমজেএল বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় ৮ টাকা ৯ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৯১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়ও ১৯ টাকা ৩২ পয়সা থেকে কমে ১৪ টাকা ৬৯ পয়সা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একমাত্র কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশের হিসাব বছর গণনা করা হয় জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে। এই নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১৭ টাকা ৭৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।
লোকসানে তিতাস, এনার্জিপ্যাক, লুব-রেফ
২০২৫-২৬ হিসাব বছরের নয় মাসে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে থাকা কোম্পানিগুলোর একটি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে সেই লোকসান বেড়ে হয়েছে শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৬২ পয়সা।
লুব-রেফ বাংলাদেশ মুনাফা থেকে লোকসানে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা মুনাফা করে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ কোম্পানির তুলনায় তেল কোম্পানিগুলো কেন ভালো মুনাফা করছে সেটা আমি বলতে পারবো না। তবে আমাদের মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ আমাদের কোম্পানির একটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। প্ল্যান্ট বন্ধ থাকার কারণে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।-জিবিবি পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ সাত্তার হোসেন
বড় লোকসানের মধ্যেই রয়েছে তিতাস গ্যাস। অবশ্য কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৯ টাকা ৫৮ পয়সা। সেখান থেকে কমে ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২১ পয়সা।
এদিকে জিবিবি পাওয়ার ও ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন মুনাফায় থাকলেও আগের হিসাব বছরের তুলনায় তা কমেছে। এর মধ্যে জিবিবি পাওয়ারের মুনাফা ১০ পয়সা থেকে কমে ৯ পয়সা হয়েছে। আর ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমে নেমেছে ১৫ পয়সায়।
বিদ্যুৎ খাতের কয়েকটি কোম্পানির আয় বেড়েছে
বিদ্যুৎ খাতের সব কোম্পানির ব্যবসায় খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে। বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ পয়সা হয়েছে। বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের মুনাফা ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সায়।
বিজ্ঞাপন
সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৮ পয়সা হয়েছে। সামিট পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১ টাকা ৪৬ পয়সা থেকে সামান্য বেড়ে ১ টাকা ৪৭ পয়সা হয়েছে।
ডেসকোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৮ পয়সা লোকসানে ছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪৬ পয়সা মুনাফা করেছে।
বিজ্ঞাপন
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশও লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। আগের হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩৪ পয়সা, সেখান থেকে ৬ টাকা ২৪ পয়সা মুনাফা হয়েছে।
শাহজিবাজার পাওয়ারের মুনাফা ১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৩৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ পয়সা।
মুনাফা থাকলেও নগদ প্রবাহে দুর্বলতা
কোম্পানির মুনাফা বাড়লেই আর্থিক অবস্থার সব সূচকে উন্নতি হয়েছে, এমনটি বলা যায় না। পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আসার পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নগদ প্রবাহ দুর্বল হলে দৈনন্দিন ব্যয়, দেনা পরিশোধ ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হতে পারে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পদ্মা অয়েলের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বাড়লেও পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৫৪ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ২৭ টাকা ২১ পয়সা।
যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৩৪ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৮৮ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ, মুনাফা থাকলেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ নেতিবাচক হয়েছে।
তবে পরিচালন নগদ প্রবাহের দিক থেকে শক্ত অবস্থা রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১১৮ টাকা ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে ছিল ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা।
বিদ্যুৎ খাতেও নগদ প্রবাহের ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডেসকোর শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৮ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১৫ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৩৬ পয়সা।
বিপরীতে তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১০ টাকা ৮৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ১৪ টাকা ২ পয়সা।
চলতি বছরের মার্চ শেষে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৮ টাকা ৬২ পয়সা। আগের হিসাব বছরেও কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ছিল। আগের হিসাব বছরের নয় মাসের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৮ পয়সা।
একই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান বারাকা পাওয়ারের পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৪০ পয়সা। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৪ টাকা ৩৭ পয়সা।
সম্পদমূল্যে এগিয়ে পদ্মা-মেঘনা
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভির হিসাবেও তেল কোম্পানিগুলো এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে পদ্মা অয়েলের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩০২ টাকা ৮৭ পয়সা, যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ২৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি এনএভি ২৭৮ টাকা ৫১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা ২ পয়সা হয়েছে। যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি এনএভি ২৭৪ টাকা ৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২৮১ টাকা ২৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ধারাবাহিক ভালো মুনাফা করার পেছনে আমাদের বিশেষ কোনো পলিসি নেই। আমরা ব্যবসা করছি মুনাফা হচ্ছে। আর আমাদের কোম্পানির যা কিছু আছে, সবকিছুই বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।-মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কোম্পানি সচিব ফারহানা আখতার
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে। ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৩৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬২ টাকা ৯১ পয়সা হয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি এনএভি ৭৩ টাকা ৮৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা ৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি এনএভি ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৫ টাকা ২১ পয়সা। লুব-রেফ বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি এনএভি ৩২ টাকা ৭২ পয়সা থেকে কমে ৩০ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে। তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি এনএভিও ৯০ টাকা ১৩ পয়সা থেকে কমে ৮৩ টাকা ৭২ পয়সা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কোম্পানি সচিব ফারহানা আখতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধারাবাহিক ভালো মুনাফা করার পেছনে আমাদের বিশেষ কোনো পলিসি নেই। আমরা ব্যবসা করছি মুনাফা হচ্ছে। আর আমাদের কোম্পানির যা কিছু আছে, সবকিছুই বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।’
জিবিবি পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ সাত্তার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ কোম্পানির তুলনায় তেল কোম্পানিগুলো কেন ভালো মুনাফা করছে সেটা আমি বলতে পারবো না। তবে আমাদের মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ আমাদের কোম্পানির একটি প্ল্যান্ট বন্ধ। প্ল্যান্ট বন্ধ থাকার কারণে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন, কেবল ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু এই বিনিয়োগের বিপরীতে যে পরিমাণ আয় বা মুনাফা আসে, তা অনেক সময় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না। ফলে কোম্পানিগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ থাকে।’
এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের কিছু কোম্পানি অতীতে বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নিয়েছে। তখন ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে তা বেড়েছে। ফলে ডলারে নেওয়া ঋণের মূল টাকা ও সুদ পরিশোধে টাকার অঙ্কে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের মতো তেল বিপণনকারী কোম্পানির ব্যবসার ধরন ভিন্ন। এসব কোম্পানির মূল কাজ হচ্ছে তেল সংগ্রহ ও সারা দেশে বিতরণ করা। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানির মতো দেশব্যাপী বিশাল অবকাঠামো নির্মাণে তাদের একই ধরনের বিনিয়োগ করতে হয় না। পাশাপাশি তেল বিপণনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যকাঠামোর মধ্যে একটি মার্জিন বা ব্যবধান থেকে আয় করার সুযোগ থাকে। ফলে তাদের মুনাফা তুলনামূলক স্থিতিশীল হতে পারে।’
তেল কোম্পানি ১০ টাকায় কিনলে ১২ টাকায় বিক্রি করে। যদি ১২ টাকায় কেনে ১৪ টাকায় বিক্রি করে। তার কোনো লস নেই। এ কারণে তেল কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করছে।-ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তেল কোম্পানি ১০ টাকায় কিনলে ১২ টাকায় বিক্রি করে। যদি ১২ টাকায় কেনে ১৪ টাকায় বিক্রি করে। তার কোনো লস নেই। এ কারণে তেল কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করছে।’
‘বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য বাড়ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এসব জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। কিন্তু সরকার বিদ্যুতের দাম সে অনুপাতে সমন্বয় করে না। ফলে কোম্পানিগুলো ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে’- বলেন ইমন।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। আগে ডলারের দাম ছিল ৯০ টাকার মতো, এখন তা বেড়ে ১২৭ টাকায় পৌঁছেছে। এতে যন্ত্রপাতি ও অন্য উপকরণ আমদানির খরচও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য বাড়েনি।’
আগে বিভিন্ন সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন খাত থেকে আয় করার সুযোগ ছিল। বর্তমানে এসব সুযোগ-সুবিধা আগের মতো নেই। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও আয় বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কোম্পানিগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে।’
এমএএস/এএসএ/ এমএফএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
