বিশ্বজুড়ে তুর্কি ধারাবাহিক বা সিরিজের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে নতুন ড্রামা সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’। নির্মাতা মের্ত বায়কাল পরিচালিত এই সিরিজটি মুক্তির পরপরই বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নেটফ্লিক্সের শীর্ষ নন-ইংলিশ সিরিজের তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে এটি। প্রথম দুই সপ্তাহেই সিরিজটি প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ অর্জন করে সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া তুর্কি কনটেন্টের মধ্যে অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
সিরিজটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে ফুন্দা নামের এক শিল্পমনা নারীকে কেন্দ্র করে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলচিন সাঙ্গু। মাতৃত্ব ও সংসারের প্রাত্যহিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় চিত্রকর্ম থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান ফুন্দা। নিজের শিল্পীসত্তায় ফেরার তাগিদে মেয়ের দেখাশোনার জন্য তিনি নাজলি নামের এক তরুণী আয়া নিয়োগ করেন, যার ভূমিকায় দেখা গেছে মেলিস সেজেনকে। পরিবারে এসে নাজলি দ্রুতই সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠলেও পরিস্থিতি আকস্মিক মোড় নেয় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়ি ফিরে নাজলিকে নিজের অতীতের ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে চিনতে পারেন। স্বামীর সেই পুরোনো সম্পর্কের সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরই সুখী দাম্পত্যে সন্দেহের বিষবাষ্প দানা বাঁধে এবং নাজলির আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয় গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন।
চেনা পারিবারিক আবহের গল্প হলেও ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর আঁটসাঁট ও রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্যের মধ্যে। বৈবাহিক সম্পর্কে আস্থার সংকট এবং প্রতিটি চরিত্রের রহস্যময় আচরণ দর্শকদের পরবর্তী পর্ব দেখার তীব্র আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে আয়া নাজলির চরিত্রটি যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তাতে দর্শক কেবল ঘটনার প্রবাহ দেখতে চান না, বরং প্রতিটি সংলাপ ও আচরণের পেছনে থাকা লুকায়িত উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করেন। সাধারণ দৃশ্যগুলোতেও টানটান সাসপেন্স বজায় রাখতে পারাটাই সিরিজটিকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বাণিজ্যিক এই সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মাঝেও সিরিজটি নিয়ে মিশ্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ডিসাইডার সিরিজটির প্রথম পর্বের ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেছে, ফুন্দার মানসিক দ্বন্দ্ব, নিজের শিল্পীজীবনে ফেরার ব্যাকুলতা এবং দুই নারী চরিত্রের মধ্যকার রহস্য গল্পটিকে আকর্ষণীয় গতি দিয়েছে। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর পর্যালোচনায়; তারা গল্পের কিছু অংশের অস্পষ্টতা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছে যে, শক্তিশালী একটি গল্পের সম্ভাবনা থাকলেও চিত্রনাট্য সব জায়গায় তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারেনি।
