সব সময় হাসিখুশি থাকা কি সম্ভব? কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা মনের অশান্তিতে কখনও কখনও বিরক্তি প্রকাশ পেতেই পারে। আর সেই গোমড়ামুখো, খিটখিটে স্বভাবকে নিয়েই যদি হয় একটি বিশেষ দিন, তা হলে মন্দ কী!
প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় গ্রাউচ ডে বা খিটখিটে মেজাজ দিবস। দিনটির উদ্দেশ্য হলো, বদমেজাজি আচরণকে ঘিরে একটু হাসি-মজা করা এবং নিজের আবেগকে বুঝতে শেখা। এই দিনে ইচ্ছা হলে সামান্য গম্ভীর থাকা যায়, আবার পরিচিত খিটখিটে মানুষদের নিয়েও মজার ছলে সময় কাটানো যায়।
অস্কার দ্য গ্রাউচের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যে গল্প
খিটখিটে মেজাজের কথা উঠলে অনেকেরই মনে পড়ে শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর চরিত্র অস্কার দ্য গ্রাউচের কথা। ১৯৬৯ সালে এই অনুষ্ঠানে আত্মপ্রকাশ করে অস্কার। চিলড্রেনস টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের মাধ্যমে আমেরিকার শিশুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে চরিত্রটি।
সবুজ রঙের লোমশ এই পুতুলের স্বভাব বরাবরই গোমড়ামুখো। নানা বিষয়ে অভিযোগ করা, বিরক্তি প্রকাশ করা এবং আবর্জনার পাত্রে বাস করাই তার পরিচিত বৈশিষ্ট্য। আবর্জনার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা নিয়েও রয়েছে মজার গান। তবে তার বদমেজাজি স্বভাবের আড়ালে কখনও কখনও কোমল মনের পরিচয়ও পাওয়া যায়। এই কারণেই অস্কার শিশু ও বড়দের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।
তবে ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে-র সূচনা অস্কারকে কেন্দ্র করে হয়নি। দিনটির প্রচলনের পেছনে রয়েছে অন্য একটি মজার ঘটনা।
এক ছাত্রীর মজার উদ্যোগ থেকেই শুরু
১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ় তাদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে উদ্যাপনের ধারণা পান।
সে সময় মিশিগানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত খিটখিটে স্বভাবের। শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। তাই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মিলে মজার ছলে ওই দিনটিকে ‘গ্রাউচ ডে’ হিসাবে চিহ্নিত করে মনিকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মজার ভাবনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দিনটি উদ্যাপনের রীতি চালু থাকে।
পরে দিনটির সঙ্গে ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের যোগসূত্রও জনপ্রিয়তা পায়। এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষ দিনটিকে নিজেদের মতো করে পালন করেন। কেউ অস্কারের মজার কাণ্ডকারখানা মনে করেন, আবার কেউ পরিচিত বদমেজাজি মানুষদের নিয়ে হাসিঠাট্টায় মেতে ওঠেন।
কী ভাবে কাটাবেন এই দিন?
গ্রাউচ ডে উদ্যাপনের জন্য বিশেষ আয়োজনের চেয়ে দিনের কিছুটা সময় মজার ছলে গম্ভীর মুখে কাটাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই মজা যেন অন্য কাউকে আঘাত না করে। বিরক্তি বা রাগ প্রকাশের মধ্যেও সংযম রাখা জরুরি।
দিনটি আবেগের দিকটি বুঝে নেওয়ারও সুযোগ করে দেয়। সব সময় ভালো থাকা বা হাসিমুখে থাকার চাপ না নিয়ে মন খারাপ, রাগ কিংবা বিরক্তির অনুভূতিগুলিকে চিনতে শেখা প্রয়োজন। সেই অনুভূতি কী কারণে তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আবেগ প্রকাশের ধরন যেন নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়।
খিটখিটে মেজাজ দিবসের আসল মজা বদমেজাজি হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হাসতে শেখা এবং অন্যের স্বভাবকে একটু সহানুভূতির চোখে দেখার মধ্যেও রয়েছে এই দিনের তাৎপর্য।
