উৎসবমুখর ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নেত্রকোণায় সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত আড়াইটাকেন্দ্রিক এই আনুষ্ঠানিকতা চলে জেলার ১০টি উপজেলার মোট ৫৪৯টি পূজামণ্ডপে। সিঁদুর খেলা, দেবী বরণ, ধুনুচি নাচ, আরতি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে মগরা নদী, কংস নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেন ভক্তরা।
এবারের বিজয়া উৎসবে শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দির, নাগড়া শিববাড়ি মন্দির, শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম, একতা সংঘ, লোকনাথ মন্দির যুব সংঘ, ধ্রুবতারা সংঘ ও বিভিন্ন সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের হাজারো ভক্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে নারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঢাকের বাদ্যের তালে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন তাঁরা। এ সময় একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ভক্তরা। বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পরে “আসছে বছর আবার হবে” এই স্লোগানে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৫৪৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোণা সদরে ১৩৮টি, মোহনগঞ্জে ৭২টি, বারহাট্টায় ৫৫টি, কেন্দুয়ায় ৫৮টি, মদনে ৪৫টি, আটপাড়ায় ৩২টি, কলমাকান্দায় ৪৮টি, দুর্গাপুরে ৪১টি, পূর্বধলায় ৩৮টি এবং খালিয়াজুরীতে ২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়।
সার্বিক উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ৩১ বিজিবি ও এসআরবি-১৪ সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, জেলার কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় উৎসবটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, নেত্রকোণা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ৫৪৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে পেরেছি।
জেএইচআর
