পুজো মানেই সাজের নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পোশাকের সঙ্গে মানানসই মেকআপ, চোখে নজরকাড়া কাজল, টানা আইলাইনার আর ঘন, লম্বা চোখের পাতা—সব মিলিয়ে উৎসবের সাজে চোখকেই করে তুলতে চান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সেই চাহিদা থেকেই এখন ট্রেন্ডিংয়ে ‘আইল্যাশ এক্সটেনশন’। নিজের চোখের পাতার সঙ্গে কৃত্রিম পাপড়ি জুড়ে ঘন ও দীর্ঘ নতুন ধরনের লুক তৈরি করা যায় এই পদ্ধতিতে। কিন্তু সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য এই সাজ বেছে নেওয়ার আগে এক বার ভাবছেন তো? কারণ, ভুল পদ্ধতিতে বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ‘আইল্যাশ এক্সটেনশন’ করালে চোখে অ্যালার্জি থেকে শুরু করে সংক্রমণ, এমনকি নিজের চোখের পাতাও ক্ষতি হতে পারে।
কী কী ঝুঁকি রয়েছে?
১. আঠা থেকে অ্যালার্জি
‘আইল্যাশ এক্সটেনশন’ লাগানোর জন্য বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়। সেই আঠায় থাকা কিছু রাসায়নিকের কারণে কারও কারও চোখে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা কিংবা ব্যথা হতে পারে এর ফলে। আগে কোনও প্রসাধনীতে অ্যালার্জি না হলেও নতুন কোনও উপাদানে প্রতিক্রিয়া হওয়া অসম্ভব নয়। তাই চোখের আশপাশে ব্যবহৃত পণ্যের উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।
২. সংক্রমণের আশঙ্কা
চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। ‘এক্সটেনশন’ লাগানোর সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিষ্কার না থাকলে কিংবা পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখের পাতায় প্রদাহ, লালচে ভাব, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্ষরণ দেখা দিতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে দৃষ্টিশক্তিও বিপন্ন হতে পারে। তাই শুধুমাত্র কম খরচের কথা ভেবে অপরিচ্ছন্ন বা অনভিজ্ঞ কোনও জায়গা থেকে এই পদ্ধতি করানো উচিত নয়।
৩. নিজের চোখের পাতাও ঝরে যেতে পারে
ঘন, দীর্ঘ চোখের পাতা দেখতে ভাল লাগে। আকর্ষণেই অনেকে ‘এক্সটেনশন’ করান। কিন্তু কৃত্রিম পাপড়ি অতিরিক্ত ভারী হলে বা নিজের পাপড়িতে বেশি টান পড়লে সমস্যা তৈরি হতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝরে পড়া কিংবা পাপড়ির গোড়ার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বারবার এক্সটেনশন করানো বা ভুল পদ্ধতিতে তা খুলে ফেলার ফলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে।
৪. পরিষ্কার রাখার ঝক্কি
চোখের পাপড়ির গোড়ায় তেল, ধুলো এবং মেকআপের অবশিষ্টাংশ জমতে পারে। ‘এক্সটেনশন’ থাকলে সেই অংশ পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। আবার পাপড়ি উঠে যাওয়ার ভয়ে অনেকে চোখের চারিদিক ঠিকমতো পরিষ্কার করেন না। তাতে চোখের পাতায় প্রদাহ বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই এক্সটেনশন করানোর পর কী ভাবে চোখের পাতা পরিষ্কার রাখতে হবে, তা পেশাদারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।
৫. দৈনন্দিন যত্নেও বাড়তি সতর্কতা
মুখ ধোয়া, মেকআপ তোলা, ঘুমোনো কিংবা চোখের জল মোছা—সব ক্ষেত্রেই কিছুটা বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। জোরে চোখ ঘষলে বা পাপড়ি টেনে ধরলে কৃত্রিম পাপড়ির সঙ্গে নিজের পাপড়িও উঠে যেতে পারে। মেকআপ তোলার সময়ও এমন কোনও পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে বা ‘এক্সটেনশন’ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. চোখে খচখচানি ও শুষ্কতার সমস্যা
‘এক্সটেনশন’ লাগানোর পর কারও কারও চোখে খচখচানি, জল পড়া, জ্বালা কিংবা অস্বস্তি হতে পারে। পাপড়ি ভুলভাবে লাগানো হলে বা চোখের আশপাশে আঠা লেগে গেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। যাঁদের আগে থেকেই চোখ শুষ্ক থাকে কিংবা চোখের পাতায় প্রদাহের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলেও পদ্ধতিটি নিজের জন্য উপযুক্ত কি না, তা আগে জেনে নেওয়া ভাল।
‘এক্সটেনশন’ খোলার সময়েও সাবধান
শুধু লাগানোর সময় নয়, খোলার সময়েও সতর্কতা প্রয়োজন। পুজো মিটতেই কৃত্রিম পাপড়ি খুলে ফেলার জন্য নিজে হাতে টানাটানি করবেন না। নখ দিয়ে খুঁটে বা জোর করে তুলে ফেললে নিজের পাপড়ি উঠে যেতে পারে, এমনকি চোখের পাতাতেও আঘাত লাগতে পারে। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিন। ‘এক্সটেনশন’ লাগানোর আগে কত দিন তা রাখা যাবে এবং কী ভাবে তার যত্ন নিতে হবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।
পুজোর সাজে বিকল্প কী?
চোখের সাজে ঘন পাপড়ির লুক পেতে যে ‘এক্সটেনশন’ করাতেই হবে, এমন নয়। ভাল মানের মাস্কারা, সাময়িক বা স্ট্রিপ আইল্যাশ এবং ‘আইল্যাশ কার্লার’ ব্যবহার করেও চোখকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। তবে সাময়িক পাপড়ি লাগানোর আঠাও চোখে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যে পদ্ধতিই বেছে নিন, চোখের জন্য উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করুন এবং পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলুন।
আইল্যাশ এক্সটেনশনের খরচ নির্ভর করে পদ্ধতি, ব্যবহৃত উপকরণ এবং সালোঁর উপর। তাই নির্দিষ্ট একটি দাম ধরে না নিয়ে আগে খরচ জেনে নিন। তবে কম দামের প্রলোভনে পরিচ্ছন্নতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না।
মনে রাখবেন, চোখের সাজের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য বাড়ানো, চোখকে ঝুঁকির মুখে ফেলা নয়। এক্সটেনশন করানোর পর চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, অতিরিক্ত ফোলাভাব বা আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পুজোর দিনগুলিতে সাজ হোক নিজের মনের মতো, তবে চোখের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করে নয়।
এই প্রতিবেদনটি "আনন্দ উৎসব" ফিচারের একটি অংশ।
