জাতীয় ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ ও পরিবেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সুন্দরী গাছ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই মূল্যবান উদ্ভিদ প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনের সামগ্রিক সুন্দরী গাছের প্রায় ৪০ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। এর ফলে এই গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং বনের সার্বিক জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ গবেষকরা জানিয়েছেন, সুন্দরী গাছে প্রধানত ’আগামরা’ বা ডাই-ব্যাক নামক এক ধরণের জটিল রোগ মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগের কারণে গাছের ডালপালা ও ওপরের অংশ ওপর থেকে নিচের দিকে শুকাতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত পুরো গাছটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মাটির গুণগত মানে নেতিবাচক পরিবর্তনের ফলেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, রোগাক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরী বনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের সক্ষমতাও বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এবং মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় নতুন সুন্দরী গাছের চারা জন্ম নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে বনের শূন্যস্থান পূরণের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য বড় একটি হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
পরিবেশবিদ ও গবেষকরা এই সংকট উত্তরণে দ্রুত কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। সুন্দরবনের নদী ও খাড়িতে মিষ্টি জলের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মাটির লবণাক্ততা হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, উপকূলীয় অঞ্চলের এই প্রাকৃতিক ঢাল ও ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
