কোজাগরী পূর্ণিমায় ঘরে ঘরে আরাধিত হবেন দেবী লক্ষ্মী। সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় দেবীর পুজোর আয়োজন করবেন অনেকেই। পুজোর নানা নিয়মের পাশাপাশি ভোগ নিবেদনও এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। প্রচলিত বিশ্বাস, ভক্তিভরে আরাধনা করলে দেবী সন্তুষ্ট হন। তাই পুজোর প্রস্তুতিতে যেমন থাকে নানা আয়োজন, তেমনই ভোগের পদ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও থাকে বিশেষ যত্ন।
প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজোয় পরিচিত পদগুলির পাশাপাশি নতুন কিছু রান্না করে দেখতে চান অনেকেই। তাঁদের জন্য রইল দুটি পদ তৈরির প্রণালী। নারকেলের পোলাও আর ডাবের পায়েস, এই দুই পদে ভোগের থালায় আসতে পারে অন্য রকম স্বাদ।
নারকেলের পোলাও
উপকরণ:
ঘি, গোটা গরমমশলা, তেজপাতা, কাজু-কিশমিশ, গোবিন্দভোগ চাল, নারকেল।
প্রণালী:
প্রথমে কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা, গোটা গরমমশলা ও কিশমিশ দিয়ে ভাল করে ভেজে নিন। আগে থেকে ধুয়ে রাখা গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে মিনিট পাঁচেক নাড়াচাড়া করুন। তার পরে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভেজে নিন। এ বার কড়াই ঢেকে কিছুক্ষণ রেখে নারকেলের দুধ ও সামান্য জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। স্বাদমতো নুন ও চিনি যোগ করে চাল সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। চাল সেদ্ধ হয়ে গেলে উপর থেকে নারকেল কোরা ও গোটা গরমমশলা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে পোলাওয়ের স্বাদ ও সুগন্ধ, দুটোই বাড়বে।
ডাবের পায়েস
উপকরণ:
শাঁসযুক্ত ডাব, দুধ, কন্ডেন্সড মিল্ক, কাজু, পেস্তা, গোলাপ জল, চিনি।
প্রণালী:
প্রথমে ডাবের শাঁস ছাড়িয়ে মিক্সিতে ভাল করে বেটে নিন। অন্যদিকে, দুধ আগে থেকে জ্বাল দিয়ে ঘন করে রাখুন। এ বার সেই দুধে গোলাপ জল, কন্ডেন্সড মিল্ক ও চিনি দিয়ে ফুটতে দিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে তাতে ছানা মিশিয়ে ভাল করে নাড়ুন। এর পরে ডাবের শাঁসের বাটা দিয়ে আবার নাড়তে থাকুন, যাতে সব উপকরণ ভাল ভাবে মিশে যায়। পায়েস তৈরি হয়ে গেলে উপর থেকে কাজু ও পেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় ভোগের থালায় এই দুই পদ রাখলে পরিচিত আয়োজনেও আসবে নতুন স্বাদ। বাড়ির পুজোর প্রস্তুতির ফাঁকে সহজেই বানিয়ে নেওয়া যায় নারকেলের পোলাও ও ডাবের পায়েস।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
