জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেন যাওয়ার পথে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ায় অন্তত ১০৯ জন নিহত এবং ১১৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন৷ এই ঘটনায় অন্তত ৮০ জন ইথিওপীয় নাগরিক প্রাণে বাঁচলেও ১৫টি শিশু মারা গেছে৷
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা- আইওএম রোববার (১১ অক্টোবর) জানিয়েছে, ইয়েমেন যাওয়ার পথে জিবুতির ওবক এলাকার কাছে নৌকাটি উল্টে যায়৷ ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ৩৫০ জন আরোহী ছিলেন৷
এক বিবৃতিতে জিবুতিতে আইওএম-এর মিশন প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক প্রাণহানির এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, “এই বিয়োগান্তক ঘটনা সেইসব বিপদের কঠোর বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, যার মুখোমুখি অভিবাসীরা এই অভিবাসন পথে হয়ে থাকেন৷ তারা মূলত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে বাব আল-মান্দেব প্রণালী পাড়ি দিয়ে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন৷’’
আইওএম-এর মতে, “মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনেককে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই জিবুতির কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে৷’’
আইওএম জানিয়েছে, গত এক মাসে জিবুতি থেকে ইয়েমেনে ২০ হাজারেরও বেশি সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে৷ ২০২৫ সালে এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকালে ৯০০ জনেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন৷ ইয়েমেনে বর্তমানে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে৷
আইওএম এর তথ্যমতে, যারা এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিক৷ শনিবার রাতে নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৮০ জনই ছিলেন ইথিওপিয়ার নাগরিক৷
রোববার দাতা ও অংশীদারদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জন্য সমর্থন জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে আইওএম৷ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে৷
